দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের নতুন ভবন নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকায়ন এবং দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের (পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস) যাত্রাবিরতির দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি মানা না হলে ফুলবাড়ীতে অর্ধদিবস রেলপথ অবরোধসহ স্টেশন ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় 'ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ'-এর ব্যানারে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুলবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। স্টেশনটির বর্তমান ভবন অত্যন্ত জরাজীর্ণ। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করলেও এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার চরম অভাব রয়েছে। প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও শেড না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই যাত্রীদের ভিজে ট্রেনে উঠতে হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ফুলবাড়ী ও এর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়া পাথর খনি এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুরের একাংশের মানুষ এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, এই স্টেশন দিয়ে আপ ও ডাউন মিলিয়ে প্রতিদিন ২২টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন যাতায়াত করে। এর মধ্যে শুধু পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি নেই। আসন স্বল্পতা ও সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকার পরও এই স্টেশন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিশাল রাজস্ব আয় হয় সরকারের। এরপরও স্টেশনটি কেন অবহেলিত, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ১৭ মে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হবে। এরপর আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ফুলবাড়ীর সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অর্ধদিবস রেলপথ অবরোধ ও ফুলবাড়ী রেলস্টেশন ঘেরাও করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল, ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব মানিক মন্ডল, সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলন ফুলবাড়ী শাখার সদস্য সচিব আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, এনসিপির দিনাজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ফুলবাড়ী শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম এবং স্থানীয় নেতা মোতালেব হোসেন মহররম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সময়ের আলো/জোই