বরিশালে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। শুক্রবার (১৫ মে) ভোররাতে নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর তিন রাস্তার মোড়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম বাবু সিকদার (৩০)। তিনি ওই এলাকার কালাম সিকদারের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পরই স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে ওই গ্যাংয়ের দুই সদস্য শহীদ ওরফে কালা শহীদ এবং ‘মটু’ সিয়ামকে আটক করে কাউনিয়া থানা পুলিশে হস্তান্তর করেছে।
নিহত বাবুর ভাই নাঈম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পলাশপুর এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক মধু ওরফে ‘টোকাই মধু’ দীর্ঘদিন ধরে বাবুর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। বাবু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল মধু।
এরই জের ধরে শুক্রবার ফজরের আজানের আগে পলাশপুর তিন রাস্তার মোড়ে টোকাই মধুর নেতৃত্বে বাবুর ওপর আকস্মিক হামলা চালানো হয়। নাঈমের দাবি, হামলায় মধুর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য ভাটিখানার ‘হাতকাটা’ রেদওয়ান, তালতলী মাছ বাজারের রুবেল ওরফে ‘খাটো’ রুবেল, ফকির রাজু, সাজ্জাদ ও সৈকত সরাসরি অংশ নেয়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
বাবুর চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় বাবু সিকদারকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ জানান, কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এই বিরোধের নেপথ্যে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ও জড়িত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় ইতিমধ্যে দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে। গ্যাংয়ের প্রধান টোকাই মধুসহ বাকি জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সময়ের আলো/জোই