ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি অবৈধ স্বর্ণ খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৯ জন খনি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) স্থানীয় পুলিশ এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পশ্চিম সুমাত্রার সিজুঞ্জুং জেলায় অবস্থিত ওই খনির পাশের একটি পাহাড় গত বৃহস্পতিবার ধসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পাহাড় ধসে পড়ার সময় শ্রমিকরা মাটির মাত্র ৩ মিটার নিচে কাজ করছিলেন। এই ঘটনায় ৯ জন মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা গেলেও ৩ জন শ্রমিক কোনোমতে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ সবার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পশ্চিম সুমাত্রা পুলিশের মুখপাত্র সুস্মেলাবতি রোসা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত স্থানটি মূলত একটি অনুমোদনহীন ও অবৈধ স্বর্ণ খনি ছিল। বর্তমানে খনিটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দ্বীপপুঞ্জে এমন অবৈধ খনি অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পরিত্যক্ত খনিগুলোতে স্থানীয় দরিদ্র মানুষ যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই সোনার আকরিকের সন্ধানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসে পড়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে প্রায়শই এই ধরনের মারাত্মক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ওয়ালহি’ এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে শুধুমাত্র পশ্চিম সুমাত্রাতেই অবৈধ খনি দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, সিজুঞ্জুংয়ে ৯ জনের মৃত্যু আবারও প্রমাণ করে যে পরিবেশ ধ্বংসকারী ও প্রাণঘাতী অবৈধ খনন কার্যক্রম থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। মূলত যথাযথ নজরদারির অভাবেই সাধারণ মানুষ বারবার এমন মরণফাঁদে পা দিতে বাধ্য হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
এর আগেও ২০২৪ সালে সুলাওয়েসি দ্বীপে এবং গত বছর পশ্চিম জাভার একটি চুনাপাথর কোয়ারিতে একইভাবে ধসের ঘটনায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অবৈধ খনন কার্যক্রম থামানো সম্ভব হচ্ছে না।
বর্ষা মৌসুমে পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় খননকাজ চালানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা এই সাম্প্রতিক প্রাণহানি আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ এই খনি ব্যবসার নেপথ্যে যারা জড়িত রয়েছেন, তাদের শনাক্ত করতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।
সূত্র: সিএনএ
সময়ের আলো/টিএইচ