মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে দুই পক্ষই এটিকে 'খুব সফল', 'চমৎকার' এবং 'ঐতিহাসিক' বলে বর্ণনা করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— এত ইতিবাচক বক্তব্য থাকা সত্ত্বেও কোনো নির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা কমানো এবং শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ কিছুটা স্বাভাবিক করা। এসময় দুই দেশের মধ্যে কৃষি পণ্য, বিমান শিল্প, বৈদ্যুতিক যান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বড় বড় কোম্পানির সিইওরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় শুধু রাজনীতি নয়, একইসঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, বৈঠকে তিনি একটি 'চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি' করেছেন, যা দুই দেশের জন্যই লাভজনক। তিনি আরও বলেন, চীন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে এবং চীনা কোম্পানিগুলো মার্কিন পণ্য, বিশেষ করে বোয়িং বিমানের মতো বড় শিল্প পণ্য কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে চীন প্রায় ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার কথা বিবেচনা করছে, যা প্রায় এক দশকের মধ্যে চীনের প্রথম বড় অর্ডার হতে পারে।
অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সফরকে 'ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী' বলে অভিহিত করেন এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দেন। বৈঠকের সময় উষ্ণ পরিবেশ, আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা, রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলো দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা নরম করার ইঙ্গিত দেয়।
তবে এত ইতিবাচক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো পক্ষই বিস্তারিত বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সম্ভবত একটি 'প্রাথমিক সমঝোতা' বা 'রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রকাশ', কিন্তু বাস্তব চুক্তি এখনও হয়নি।
এছাড়া বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অনেক সময় এমন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নেতারা ইতিবাচক বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য, কিন্তু বাস্তবে চূড়ান্ত চুক্তি পরে টেকনিক্যাল আলোচনার মাধ্যমে হয়। তাই এই বৈঠককে সম্পূর্ণ সফল বলা হলেও এর বাস্তব ফল এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ট্রাম্পের মন্তব্যের সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক লাভ এবং উইন-উইন সহযোগিতা। অর্থাৎ দুই দেশই যেন একে অপরের ক্ষতি না করে লাভবান হতে পারে— এটাই তাদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, দুই নেতার মধ্যে যে 'গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য' হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা দরকার, যাতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসে।
এদিকে, বোয়িং সংক্রান্ত ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি কোম্পানিটি এবং এই বিষয়ে তথ্য যাচাই চলছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— আগে যে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক বাড়ানো কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করেছিল, আর চীনও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল 'রেয়ার আর্থ' রফতানি সীমিত করা থেকে পিছিয়ে এসেছিল। এই রেয়ার আর্থ প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক শিল্পের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, এই শুল্ক বিরতির মেয়াদ নভেম্বরের পর বাড়ানো হবে কি না— তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ইস্যু ঝুলে আছে।
সবশেষে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতা সরাসরি শুল্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু না করে সম্পর্ক পরিচালনার জন্য একটি নতুন 'বাণিজ্য বোর্ড' গঠনে সম্মত হয়েছেন। এই বোর্ডের কাজ হবে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাণিজ্য আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি সিএনবিসিকে দেওয়া একটি পূর্বে রেকর্ড করা সাক্ষাৎকারে বলেন যে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর প্রক্রিয়া তৈরিতে কিছু অগ্রগতি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
এর মানে হলো, যুক্তরাষ্ট্র চায় চীনের সঙ্গে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে, যেখানে দুই দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজভাবে চলতে পারে এবং বড় বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন যে, এখনই এসব ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে— এমনটা ভাবা ঠিক নয়। কারণ এসব বিষয় কার্যকর করতে হলে আরও অনেক প্রযুক্তিগত আলোচনা, নীতি নির্ধারণ এবং দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত চুক্তির প্রয়োজন হবে।
অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত যা বলা হচ্ছে তা মূলত ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও সম্ভাবনার ইঙ্গিত, কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হতে এখনও অনেক ধাপ বাকি।
প্রযুক্তি ও বাণিজ্য
এই সফরের সময় প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। বেইজিংয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ান অবতরণের সময় দেখা যায়, টেসলার প্রধান ইলন মাস্কসহ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও মার্কিন কর্মকর্তারা বিমান থেকে আগে নামেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে সফরে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
স্বাগত অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং ট্রাম্পের কাছাকাছি অবস্থান করেন। বিশেষ করে জেনসেন হুয়াংয়ের এই সফরে যোগ দেওয়া অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে, কারণ শুরুতে তার প্রতিনিধি দলে থাকার কথা ছিল না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও চিপ প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতার মূল ক্ষেত্র হলো বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি। এই খাতগুলো ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও প্রযুক্তি শক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় টেসলা ও এনভিডিয়ার মতো কোম্পানিগুলো চীনের বাজারের সাথে গভীরভাবে যুক্ত।
এই সফর শুধু রাজনৈতিক আলোচনা নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির কৌশলগত দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।
টেসলা চীনের সাংহাই গিগাফ্যাক্টরি এবং চীনা গ্রাহকদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল, কারণ সেখানে তাদের গাড়ির বড় বাজার রয়েছে। অন্যদিকে, এনভিডিয়া চায় আবার চীনে উন্নতমানের চিপ বিক্রি শুরু করতে, কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই রফতানি নিয়ন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনকে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে খুব বেশি এগিয়ে যেতে না দেওয়া। তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, শীর্ষ বৈঠকে এই বিষয়টি বড় কোনো আলোচনার অংশ ছিল না।
অন্যদিকে, চীন দীর্ঘদিন ধরে উন্নত প্রযুক্তির সহজ প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছে এবং যুক্তি দিচ্ছে যে এসব নিষেধাজ্ঞা তাদের শিল্প ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।
আগে ধারণা করা হয়েছিল যে এই বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বড় আলোচনার বিষয় হবে, কিন্তু বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সারসংক্ষেপে এই বিষয়ে কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
চীনের কাছে কী কী বিক্রি করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক নিয়ে যে পাল্টাপাল্টি বাণিজ্য যুদ্ধ হয়েছিল, তাতে আমেরিকার কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে তারা চীনে আরও বেশি সয়াবিন, গরুর মাংস এবং মুরগির মাংস রফতানি করতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু বাধার মুখে পড়েন।
মার্কিন প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, চীনের সঙ্গে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনাবেচা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে চীন আরও বেশি কৃষিপণ্য কিনবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের কোনো নতুন চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তারা শুধু বলেছে, দুই দেশ স্থিতিশীল বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মতে, আলোচনায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য চীনা বাজারে আরও সুযোগ তৈরি করা এবং চীনের মার্কিন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ও ছিল।
তবে বাস্তবে চীনে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ আছে— যেমন কঠোর নিয়ম-কানুন, জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
তবুও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সেখানে আরও বড় সুযোগ তৈরি হবে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে 'পারস্পরিক লাভজনক' এবং 'উইন-উইন' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং কৃষি, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
লাল রেখা : তাইওয়ান
মার্কিন মিত্র এবং স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ান, যেটিকে বেইজিং নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনার সময় বেশ কয়েকটি উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এবার বেইজিং তাইওয়ান ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্কের আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত করেছে।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শি জিনপিং বলেছেন যে দুই পক্ষ গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে সম্পর্কের জন্য একটি 'নতুন অবস্থানে' পৌঁছাতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান এখনো সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আলোচনায় শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেন, 'চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো তাইওয়ান প্রশ্ন।'
তিনি আরও বলেন, এটি যদি ভুলভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বা এমনকি সামরিক সংঘর্ষও ঘটতে পারে।
এদিকে তাইপেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এখনো স্পষ্ট নয় যে এটি তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা বা দ্বীপটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কীভাবে এবং কতটা প্রভাবিত করবে।
অমীমাংসিত ফল্ট লাইন
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালী অবরোধ— এই বিষয়গুলো আলোচনার মূল এজেন্ডার অংশ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ইরান-সংকট এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেই আলোচনায় প্রবেশ করেছিল।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরানকে উৎসাহিত করতে চীন তার প্রভাব ব্যবহার করতে পারে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে চান এবং বলেছেন, আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, তবে করব।
অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে 'দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি'র আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানের প্রতি সাড়া দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব শিপিং রুটগুলো পুনরায় চালু করা উচিত।
গেটি ইমেজের ১৪ মে ২০২৬ তারিখের এক ছবিতে দেখা যায়, চীনের বেইজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলের বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠানের আগে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং বিভিন্ন খাতের প্রায় ৩০ জন শীর্ষ নির্বাহী উপস্থিত ছিলেন।
এই সংঘাত চীনের অর্থনীতির জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তেলের দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহ রুটে বারবার বিঘ্ন চীনের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার প্রভাব বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতিতেও পড়ছে।
ট্রাম্প এরইমধ্যে দ্বিতীয় দফা শীর্ষ বৈঠকের জন্য সেপ্টেম্বরে শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
আগামী শীর্ষ সম্মেলনের আগে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যাতে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারে— যা এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
/ইউএমএইচ