লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৮ নম্বর কাদিরা ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচির আওতায় কাটাখালী খাল খনন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। খালের খনন কাজ ভুলুয়া নদীর সাথে সংযুক্ত না করেই কাজ শেষ করায়, বর্ষা মৌসুমে কয়েক হাজার মানুষ ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
জানা যায়, উপজেলার কাদিরা ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ স্লুইস গেট থেকে ভুলুয়া নদী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ কাটাখালী খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) খালের প্রকৃত নকশা অনুসরণ না করে খামখেয়ালিভাবে কাজ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। খালের একাংশ খনন না করেই বেকু মেশিন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন ও মূরশিদা খাতুন অভিযোগ করেন, ঠিকাদার এবং পিআইসি সভাপতি সুফিয়া বেগমকে অন্য একলোক নদী ও খালের সংযোগস্থল তারা ‘পৈতৃক সম্পত্তি’ দাবি করে খনন কাজ বন্ধ রেখেছে।
মূরশিদা খাতুন বলেন, ‘ভুলুয়া নদী কীভাবে একজনের রেকর্ডীয় সম্পত্তি হয়? এখন খাল খনন না করেই ঠিকাদার মেশিন নিয়ে চলে গেছে।’
আলেয়া বেগম নামে আরেক বাসিন্দা জানান, মূল খাল খনন না করে তার ঘরবাড়ি ভাঙার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি সুফিয়া বেগমের স্বামী ছিদ্দিক উল্লাহ খালের কাজ তদারকির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কাজটি আমিই করাচ্ছি। কিন্তু জনৈক মুসলিম তার রেকর্ডীয় জায়গার ওপর দিয়ে খাল নিতে দিচ্ছে না, তাই কাজ এগোচ্ছে না।’
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘খালের অল্প কিছু কাজ বাকি আছে। সীমানা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সার্ভেয়ার পাঠিয়ে সীমানা মেপে আমরা শ্রমিক দিয়ে দ্রুত বাকি অংশ খনন করে দেব।’
তিনি বলেন, ‘খালের সাথে ভুলুয়া নদীর সংযোগ না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে। এতে বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিবে।’
এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে খালের সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত খনন কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
/কেএইচও