এবার কুরবানি ঈদে বিক্রির জন্য রাজকীয় গড়ন আর বিশাল দেহের এক গরুকে প্রস্তুত করেছেন জামালপুরের খামারি রফিক। গরুটির নাম তিনি দিয়েছেন ‘জমিদার’। মজার বিষয় হলো, এক হাজার ৩০০ কেজি ওজনের বিশাল গরুটিকে জমিদার নামে ডাকলেই সাড়া দেয়। গত ঈদে গরুটির দাম উঠেছিল ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু দাম কম মনে হওয়ায় গতবার বিক্রি করেননি খামারি রফিকুল। ইচ্ছা ছিল আরেকটু বড় করে বিক্রি করার। এবারের ঈদে ভালো দাম পেলেই বিক্রি করে দেবেন জমিদারকে। এবার কুরবানির হাটে তোলা হবে গরুটিকে। তবে তার আগেই গরুটিকে দেখতে রফিকের বাড়িতে ভিড় করছে অনেক মানুষ।
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার খামারি রফিকুল ইসলামের খামারে বেড়ে উঠেছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি। শুক্রবার সরেজমিন খামারটিতে গিয়ে দেখা যায়, জমিদার শুধু আকারেই বড় নয়, তার জীবনযাপনও একেবারে রাজকীয়। খামারি রফিকুল জানান, জমিদারের খাবারের পেছনে প্রতিদিন তার খরচ হয় প্রায় দুই হাজার টাকা। বাসি খাবার সে একদমই খায় না। প্রতিবারই তার চাই টাটকা খাবার। প্রতিদিন তার খাবারের তালিকায় থাকে কলা, হাঁসের ডিম, দেশি ঘাস, ভুট্টা ও গমের ভূসি। নিয়মিত গোসল করানো হয় শ্যাম্পু দিয়ে। চার বছর আগে তার গোয়ালঘরেই জন্ম নিয়েছিল এই জমিদার। ছোটবেলা থেকেই নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন। গরুটি এতই বিশাল যে গোয়ালঘর থেকে বের করতে হলে ঘরের দেয়াল ভাঙতে হবে। দেয়াল ভাঙা ছাড়া জমিদারকে গোয়াল ঘরের বাইরে আনা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় এর আগে এত বড় গরু কেউ দেখেনি। প্রতিদিনই মানুষ জমিদারকে দেখতে খামারে আসছেন। গরুটি মালিকের ভাষা বোঝে এবং তার ডাকে সাড়াও দেয়। দাঁত দেখাতে বললে গরুটি দাঁতও দেখায়। খামারি রফিকুল ইসলাম একজন গরিব মানুষ। কষ্ট করেই তিনি লালন-পালন করেছেন গরুটিকে। একটু বেশি দামে বিক্রি করতে পারলে পরিবারটি ভালো থাকতে পারবে।
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ছোট খামারিরাও এখন বড় আকারের গরু পালন করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে অনলাইনে পশু বিক্রির প্ল্যাটফর্ম চালু রয়েছে।
এ ছাড়া জেলায় বিভিন্ন পশুর হাটও রয়েছে। ইচ্ছা করলে তারা হাটে নিয়েও গরুটিকে উপযুক্ত দামে বিক্রি করতে পারবেন।
খামারি রফিকুল বলেন, গেল বছর ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম উঠেছিল জমিদারের। কিন্তু বিক্রি করিনি। এবার ভালো দাম পেলেই বিক্রি করে দেব। রফিকুলের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, নিজের সন্তানের মতোই গরুটিকে বড় করেছি। পরিবারের সবাই মিলে তার যত্ন নিই। এমন একটি দামে বিক্রি করতে চাই যাতে আমাদের কিছু লাভ হয়। কারণ এই গরুটি পালতে আমাদের অনেক খরচ হয়েছে। বাড়ি থেকেই গরুটি বিক্রি করতে চাই আমরা।
এএডি/