শীতের হাওয়া বইছে মাঠের ওপর দিয়ে। ধান কাটা শেষ, ক্ষেতভরা খড়ের গাদা, আর দিগন্তজোড়া কুয়াশা। গ্রামের নাম চররামপুর। এখানে থাকে ছোট্ট এক ছেলে, নাম তার রিফাত। রিফাত খুব সকালে উঠতে ভালোবাসে, কারণ তখনই সূর্য উঠার আগে সে দেখতে পায় আশ্চর্য এক দৃশ্য আকাশ ভরা উড়ন্ত পাখির দল!
একদিন সে বাবাকে জিগ্যেস করল- বাবা, এই হাঁসগুলো প্রতিদিন আসে কোথা থেকে?
বাবা হেসে বললেন, ওরা আমাদের অতিথি হাঁস। দূরদেশ থেকে আসে, যেখানে এখন বরফ পড়ছে। বাংলাদেশে আসে উষ্ণতার খোঁজে।
রিফাত অবাক হয়ে গেল, মানে, হাঁসরাও বিদেশ ভ্রমণ করে?
বাবা হেসে বললেন, হ্যাঁ, তারা আকাশের পথ চেনে, তারা দেখে, নদী দেখে, বাতাসের গন্ধে পথ খুঁজে পায়।
আরও পড়ুন
পরের দিন রিফাত এক আশ্চর্য কাজ করল। সে উঠোনে এক পুকুরের পাশে ছোট একটা বাঁশের ঘর বানাল। তার নাম দিল হাঁসের আশ্রয়। বাঁশের ঘরটা সাজাল শুকনো ঘাস দিয়ে, চারপাশে ছড়িয়ে রাখল ধানের কুঁড়া।
রিফাত প্রতিদিন সেখানে একটু ভাত রাখে, আর অপেক্ষা করে অতিথি হাঁসের জন্য। একদিন ভোরে সে দেখল তিনটি হাঁস সত্যিই এসে নেমেছে তার পুকুরে! একটা কালো ডোরা হাঁস, একটা সাদা ঠোঁটওয়ালা, আর একটা সোনালি ডানার মতো রঙের।
রিফাত নিঃশব্দে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকল। হাঁসগুলোও যেন জানল এই ছোট্ট বন্ধুটি শিকারি নয়, ভালোবাসার মানুষ।
কয়েক দিনের মধ্যে রিফাত আর হাঁসগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে গেল। সে তাদের নাম রাখল বেলা, রোশন ও টুনি। বেলা ছিল সাহসী, রোশন ছিল লাজুক, আর টুনি ছিল দুষ্টু! তারা প্রতিদিন বিকালে পুকুরে সাঁতার কাটত, আর রিফাত তাদের গল্প শোনাত, তোমরা জানো, তোমাদের দেশের নাম কী? তুষারের দেশ!
হাঁসগুলো মাথা নেড়ে যেন বলল- হ্যাঁ, জানি; কিন্তু এখানে রোদের উষ্ণতা আছে, তাই ভালো লাগে। শীত শেষে একদিন ভোরে রিফাত শুনল আকাশে ডানা মেলার শব্দ।
ওপরে তাকিয়ে দেখে সারি সারি হাঁস ওড়ে যাচ্ছে উত্তর আকাশের দিকে।
বেলা, রোশন আর টুনি ওড়ে যাচ্ছে তাদের দলের সঙ্গে। রিফাতের চোখে পানি এসে গেল, ভালোবাসা মানে ধরে রাখা নয়, মুক্ত করে দেওয়া। সে হাত নাড়ল আকাশের দিকে- ফিরে এসো পরের শীতে, আমার আকাশে আবার দেখা হবে।
এএডি/