বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীকে রক্ত দেওয়াকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে নার্স ও হাসপাতালকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নার্স ও এক ওয়ার্ড বয় আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। অবশ্য ঘটনার পর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) সকালে হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল স্টাফরা থানায় মুচলেকা দিয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারপাশিয়া গ্রামের সেলিমা বেগম থ্যালাসেমিয়াজনিত সমস্যার কারণে রক্ত নিতে হাসপাতালে আসেন। তাকে ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে নেওয়া হলে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক তার আগের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দেখতে চান। কিন্তু রোগীর স্বজনরা তা দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক মহিমা জামান বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো রোগীকে রক্ত দেওয়া সম্ভব নয়। এই কারণে রোগীর নিরাপত্তা ও সঠিক চিকিৎসার স্বার্থে তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেশি থাকায় সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন স্বজনরা। এ নিয়ে রোগীর ছেলে এনামুল ও মেয়ের জামাই আবুল বাশারের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রোগীর স্বজনরা ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের ওয়ার্ড বয় ইমন মোল্লার ওপর চড়াও হন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে নার্স শারমিন আক্তার ও দোলা আহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসার পরও দ্রুত চিকিৎসা না দিয়ে নিয়মের অজুহাতে তাদের হয়রানি করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল স্টাফদের নিয়ে থানায় আলোচনা হয়েছে। স্বজনরা হাসপাতালে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন, আর হাসপাতাল স্টাফরা তাদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। পরবর্তীতে হাসপাতাল পরিচালকের উপস্থিতিতে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষ থানায় মুচলেকা দিয়েছে।
সময়ের আলো/জোই