চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে পটিয়ায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে নতুন করে ৭২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য পদে পটিয়া উপজেলা থেকে ১২ জন স্থান পান। তবে দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী পদ না পাওয়ায় দলের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া পদধারীদের বেশিরভাগই দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির অনুসারী। অন্যদিকে পদবঞ্চিত অংশটি দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়নের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার বিকেলে শান্তিরহাট কামাল সেন্টার মার্কেট এলাকায় নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীরা একটি আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে মিছিলে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
খবর পেয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের বাধার কারণে মূল সড়কে আনন্দ মিছিল করতে না পেরে নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা শান্তিরহাট মীর সুপার মার্কেট এলাকায় একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, সমাবেশ শেষে চলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সায়মন, নুরুল ইসলাম ও হাবিব নামে তিন কর্মী আহত হন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করে বলেন, সমাবেশ শেষ করে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে সায়মন ও নুরুল ইসলামের পেটে ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আমিও হামলায় আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।
অন্যদিকে, পদবঞ্চিতদের পক্ষের নেতা ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়ন বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে মামলা-হামলার শিকার হয়ে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা কমিটিতে স্থান পাননি। এমন অন্যায্য সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই