বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি চলতি ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।
শুক্রবার (১৫ মে) লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ক্যামেরন শহরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা থাকলেও একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এই অচলাবস্থা নিরসনের চেষ্টা চলছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে সাময়িক কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও আমরা গভীরভাবে আশা করছি যে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই উভয় দেশের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং এই গ্রীষ্মের শেষেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে যাবে কিংবা আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’
ওমানের সঙ্গে পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস এই হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ সামুদ্রিক রুট দিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রণালি দিয়ে সমস্ত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় তেহরান প্রশাসন।
বিশ্ব অর্থনীতির এই প্রধান ধমনীটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক তীব্র অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়।
এরই মধ্যে ইরান সম্প্রতি এক বিতর্কিত ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হলে সমস্ত বিদেশি জাহাজগুলোকে তেহরানকে নির্দিষ্ট হারে বিশেষ টোল বা মাশুল দিতে হবে। তবে বিশ্বের অধিকাংশ পরাশক্তি ও বাণিজ্যিক দেশগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেহরানের এই একতরফা ও জবরদস্তিমূলক ঘোষণায় তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ জানিয়েছে। এই টোল আরোপের বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞরা।
এই টোল বিতর্ক ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ক্রিস রাইট মার্কিন গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, ‘হরমুজ অবরুদ্ধ রাখার মাধ্যমে ইরান যদি বিশ্ব অর্থনীতিকে এককভাবে জিম্মি করতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থে এই জলপথকে মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বল প্রয়োগ করতে পারে; তবে এই কাজটি মোটেও সহজ নয়।
এখানে সব পক্ষকে নিয়ে কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজাটাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সর্বোত্তম ও নিরাপদ বিকল্প।’ ওয়াশিংটন এই সংকট সমাধানে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্যে প্রকাশ পায়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
সময়ের আলো/টিএইচ