অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, আদালতের দ্বারস্থ হয়েও শেষ পর্যন্ত চাকরিতে ফেরা হলো না মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল খালেকের। দীর্ঘ দেড় বছরের অপমান, মানসিক যন্ত্রণা ও অর্থকষ্টের সঙ্গে লড়াই শেষে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।
শনিবার (১৬ মে) সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৬০ বছর।
আব্দুল খালেক কুমিল্লার বড়রা উপজেলার তলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সাল থেকে শ্রীপুর উপজেলার গাড়ারণ খলিলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১২ আগস্ট একদল যুবক মাদ্রাসায় মব সৃষ্টি করে তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করে। এ সময় তাকে টেনেহিঁচড়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই সময়কার গভর্নিং বডির ১৪ আগস্টের সভায় তার পদত্যাগপত্র অনুমোদন করা হয়। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় তার বেতন-ভাতা।
চাকরি ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। তবে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় কর্মস্থলে ফেরা হয়নি তার।
দুইদিন আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে- তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
তার ছোট ছেলে ফরহাদ বলেন, ‘ওই ঘটনার পর থেকেই বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সব সময় চুপচাপ থাকতেন, মন খারাপ করে বসে থাকতেন। চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কিছুই হলো না।’
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তিনি চাকরিচ্যুত হন। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমাদের পক্ষে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।’
/মহু