চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় থানার সামনেই অবস্থিত শহিদ মিনারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ফেস্টুন টানানোর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সচেতন মহল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘গেইম পার্ক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। শহিদ মিনারের মূল কাঠামোর সামনে সেই প্রতিষ্ঠানের বড় আকারের প্রচারণামূলক ফেস্টুন টানানো হয়। সেই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে- সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
ছবিতে দেখা যায়, শহিদ মিনারের সামনের অংশ প্রায় ঢেকে দিয়ে ফেস্টুনটি টানানো হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পরিচিত স্থাপনাটির এমন ব্যবহারকে স্থানীয়রা ‘চরম দায়িত্বহীনতা’ ও ‘জাতীয় চেতনার অবমাননা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর বলেন, ‘থানার সামনেই যদি শহিদ মিনারে ফেস্টুন ঝুলে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কী বার্তা পাবে? পুলিশের চোখের সামনে এমন ঘটনা হওয়া খুবই দুঃখজনক।’
একজন কলেজ শিক্ষক বলেন, ‘শহিদ মিনার কোনও বিজ্ঞাপন বোর্ড নয়। এটি ভাষা শহিদদের রক্তের স্মৃতি বহন করে। সেখানে বাণিজ্যিক ফেস্টুন লাগানো জাতীয় আবেগের প্রতি অসম্মান।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহিদ মিনারে ফেস্টুন লাগানোর সময় কেউ বাধা দেয়নি। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে সেটি ঝুলে থাকলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান গেইম পার্ক কর্তৃপক্ষের কোনোও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমনকি সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
/মহু