বরিশালে স্থানীয় পশুতেই মিটবে কোরবানির চাহিদা

বরিশাল প্রতিনিধি

সারাদেশ

আসন্ন ঈদুল আজহায় বরিশাল বিভাগে কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না বলে নিশ্চিত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয়

2026-05-17T18:28:52+00:00
2026-05-17T18:28:52+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বরিশালে স্থানীয় পশুতেই মিটবে কোরবানির চাহিদা
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ৬:২৮ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
আসন্ন ঈদুল আজহায় বরিশাল বিভাগে কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না বলে নিশ্চিত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় ও স্থানীয় পশুতেই এবার কোরবানির সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। চলতি বছর বিভাগের ছয় জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি থাকায়, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও প্রায় ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভাগের ৩ হাজার ৯১৫ জন ছোট-বড়ো খামারির কাছে বর্তমানে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি কোরবানিযোগ্য পশু সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। 

অন্যদিকে, এবার সম্ভাব্য পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮৩টি। সেই হিসাবে চাহিদার তুলনায় ৬৭,৬৬২টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

মজুতকৃত এসব পশুর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৮৩টি ষাঁড় গরু, ৬৮ হাজার ২৭৮টি বলদ, ৯৮ হাজার ৫টি মহিষ, ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯০টি ছাগল এবং অন্যান্য পশু ১৫০টি।

জেলাভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় সব জেলাতেই চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় চাহিদা ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৯টি হলেও প্রস্তুত আছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪টি পশু। পটুয়াখালীতে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৭৪টি চাহিদার বিপরীতে রয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৮টি। ঝালকাঠিতে ৩০ হাজার ২৮টি চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুত ৩০ হাজার ৫৮৮টি পশু। এ ছাড়া বরগুনায় ৩০ হাজার ১৮২টি চাহিদার বিপরীতে রয়েছে ৪৩ হাজার ৪২৬টি, ভোলায় ৮০ হাজার ৭৪৩টি চাহিদার বিপরীতে ১ লাখ ৩ হাজার ১৭টি এবং পিরোজপুরে ২১ হাজার ৫৭৭টি পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ২৮ হাজার ৬৫২টি পশু।

বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহফুজুল হক বলেন, 'গ্রামাঞ্চলে অনেক সাধারণ পরিবার ব্যক্তিগতভাবে ও ছোট পরিসরে গরু-ছাগল পালন করায় এবার স্থানীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে কোরবানির জন্য বিদেশি পশুর ওপর কোনো ধরনের নির্ভরতার প্রয়োজন হবে না।' 

তবে খামারিরা জানিয়েছেন, এবার পশুর উৎপাদন ও লালন-পালন ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। তাছাড়া ভারতীয় গরু বাজারে না এলে স্থানীয় খামারিরাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং ন্যায্য মূল্য পাবেন। 

বরিশালের এমইপি অ্যাগ্রো ফার্মের তত্ত্বাবধায়ক রাফিউর রহমান জানান, গো-খাদ্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে অনেক খামারি আগেভাগেই পশু বিক্রি শুরু করায় হাটের তুলনায় এখন কিছুটা কম দামে পশু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

বরিশাল সাদ সাঈদ এগ্রো ফার্মের মালিক সাঈদ বিন মিরাজ বলেন, 'অনেকেই ইতোমধ্যে সরাসরি খামার থেকে গরু কেনা শুরু করেছেন। হাটের চেয়ে খামার থেকে গরু কেনায় ক্রেতারা বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। হাটে গেলে দালাল, খাজনা ও পরিবহন খরচের বাড়তি বোঝা কাঁধে চাপে। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে ক্রেতাদের অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুণতে হবে। কিন্তু এগ্রো ফার্ম থেকে কিনলে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় ক্রেতাদের বাড়ি পর্যন্ত গরু পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।' 


বরিশাল নগরীর টিয়াখালি এলাকার সাধারণ খামারি নাসির উদ্দিন ও লিটন জানান, গো-খাদ্যের দাম ও পশুর লালন-পালন ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তাই উৎপাদন খরচ হিসাব করেই পশুর দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অনেক গরু খামার থেকেই বিক্রি হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট পশুগুলো হাটে নিয়ে বিক্রি করা হবে। 

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিকর উপায়ে কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজাকরণ বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পশুর হাট তদারকিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম মাঠে সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   বরিশাল  পশু  কোরবানি  চাহিদা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: