পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আল আমিন হাওলাদার (২৩) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন ওই গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় নোমান পণ্ডিত (৩৫), আজিজুল সরদার (২৭) ও শাহাবুদ্দিন ঘরামীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ওই ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের নোমান, দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের আজিজুল সরদার, লক্ষ্মীপুর গ্রামের কাওসার আঁকন (৪৫) ও শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ ৪-৫ জন মিলে আল আমিন হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহতের ভাই আসিফ হাওলাদার জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নোমান ও আজিজুল তাদের বাড়িতে যান। তারা দুইজন আল আমিনকে পাওনা টাকা দেবেন বলে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন। পরে তারা তাকে মোটরসাইকেলে করে নোমানের বাড়ি নিয়ে যান। সেখানে আল আমিনকে মারধর ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মৃত ভেবে তারা আল আমিনকে পার্শ্ববর্তী একটি খেতের মধ্যে ফেলে দেন।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসিফকে মোবাইল ফোনে জানায়। পরবর্তীতে তিনি লোকজন নিয়ে আল আমিনকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক মো. কামরুল হাসান মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আসিফ আরও বলেন, তার ভাই এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। প্রায় ১৫-২০ দিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফেরেন। আল আমিন বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তদের টাকা ধার দিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে পাওনা টাকা ফেরত চান। পরে তাকে হত্যা করে।
অপরদিকে, আল আমিনকে উদ্ধারের সময় তার স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে নোমান ও আজিজুলকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে সফিপুর ফাঁড়ির পুলিশ ওই এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিনকেও আটক করেন। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ প্রায় অর্ধশত মামলা রয়েছে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রস্তুতি চলছে। বাকি অভিযুক্তদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই