দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তার যোগসাজশে বালু ও ইটের খোয়ার বদলে মাটি ও ইটের সুরকি মিশিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে করে সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা সড়কটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুযোগী হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশল দফতর সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার ৬ নং জোতবানী ইউনিয়নের কেটরা জিসি (গ্রোথ সেন্টার) থেকে ২ নং কাটলা ইউনিয়নের কাটলা জিসি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক প্রশস্তকরণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। এটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) যৌথ অর্থায়নে ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতরের রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। মেসার্স বসুন্ধরা ও মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং (জেভি) নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই সড়কটি নির্মাণ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আমাইল ও শিবপুর গ্রামের সামনে কেটরা-শিবপুর সড়কের নির্মাণাধীন কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়ার সঙ্গে লাল মাটি মিশিয়ে রোলার মেশিন দিয়ে সেই সড়ক সমান করা হচ্ছে। লাল মাটিতে বৃষ্টির পানি পড়ে সেখানে কাদা হতে দেখা গেছে। আর কোনো কোনো অংশে ইটের খোয়া ও মাটি মিশ্রিত সমান করা সড়কের ওপর ইটের সুরকি দেওয়া হচ্ছে।
কাজের শুরুতে নির্মাণাধীন সড়কের পাশের গ্রামের লোকজন সড়কে নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করলেও উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদার বিষয়টি আমলে নেননি। আর পাকা সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্টতা থাকায় অভিযোগটি জোরালো হয়নি। তবে, দুর্নীতির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গত ৭ মে গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের দিনাজপুর কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন স্থানীয়রা।
সড়ক নির্মাণে ইটের সুরকি ও মাটি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসুন্ধরা ইঞ্জিনিয়ারিং স্বত্বাধিকারী নজল হোসেন বলেন, মাটি ও সুরকি দেওয়ার কোনো অপশন নেই। সেখানে ছোট-বড় খোয়ার সঙ্গে ১০ শতাংশ বালু দেওয়া আছে। সুরকি বলতে ওখানে কোনো জিনিস নাই। আর ছোট খোয়া করতে গেলে গুঁড়া হবে।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, কেটরা জিসি থেকে কাটলা জিসি পর্যন্ত পাকাসড়ক প্রশস্তকরণ ও পুনর্নির্মাণের যে কাজ চলছে সেখানে ইটের সুরকি বা মাটি দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই