নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক নবজাতক শিশুকে ছুঁড়ে ফেলে তার মাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মুদি দোকানির বিরুদ্ধে। রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টার মধ্যে উপজেলার তেতুলিয়া কৈজানী নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অভিযুক্ত মুদি দোকানি আব্দুর রউফ মিয়াকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি জেলার মদন উপজেলার বাসিন্দা এবং তেতুলিয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকার মুদি দোকানদার।
সোমবার (১৮ মে) কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ বিষয়টি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রগা ইউনিয়নের নূরনগর গ্রামের বাসিন্দা। এক বছর আগে নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর গ্রামের রিপন মিয়ার (৩০) সঙ্গে বিয়ে হয়। এক মাস ৭ দিন আগে এক শিশুর জন্ম হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ১৫ মে স্বামী ওই নারীকে একতরফাভাবে তালাক দেন। এরপর ওই নারী গত ১৭ মে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নবজাতককে নিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পথে কৈজানী নদী পার হয়ে তেতুলিয়া ঘাটে পৌঁছান তিনি। সেখানে ঘাট সংলগ্ন রউফ মিয়ার দোকানে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন।
এ সময় রউফ তাকে রাতে একা ভ্রমণ করতে নিষেধ করেন এবং তার বাড়িতে থেকে পরদিন সকালে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে তিনি শিশু ও ব্যাগ নিয়ে রউফের সঙ্গে রওনা হন। কিন্তু পথে গিয়ালী খালের পাশের এক নির্জন স্থানে নিয়ে নবজাতকের মাকে কুপ্রস্তাব দেন এবং ধর্ষণচেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী এতে রাজি না হয়ে চিৎকার ও বাধা দিলে রউফ ক্ষিপ্ত হয়ে কোল থেকে শিশুটিকে ছুড়ে ফেলে দেন। এরপর দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টা চালান।
এ সময় কাছাকাছি এলাকায় বরশি দিয়ে মাছ ধরতে আসা এক জেলের উপস্থিতি টের পেয়ে রউফ দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে তিনি চিৎকার করে স্থানীয়দের বিস্তারিত জানান। তখন স্থানীয় জনতা পার্শ্ববর্তী একটি পাটখেত থেকে অক্ষত অবস্থায় নবজাতককে উদ্ধার করে বাজারে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে ওসি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি জানান, ভুক্তভোগী মা ও শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে সোমবার সকালে অভিযুক্ত আব্দুর রউফকে গ্রেফতার করা হয়।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। রউফকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে নবজাতক ও ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই