দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভায় বাড়ি নির্মাণের নকশা অনুমোদন দিতে কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট ৬ জনের স্বাক্ষরের জন্য ৬০ হাজার টাকা ঘুস দাবি ও বোর্ড সভার খরচ বাবদ অতিরিক্ত ঘুস নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে পৌরসভার নকশাকার এস এম রবিউল হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ১০ মে ওই নকশাকারের বিরুদ্ধে বিরামপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিনা খাতুনের নিকট দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন লাবণী খাতুন নামের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।
অভিযোগকারী লাবণী খাতুন বিরামপুর পৌরসভার ইসলামপাড়া মহল্লার ব্যবসায়ী এ এস এম আশরাফুল আলমের স্ত্রী। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের দিনাজপুর জোনের রতন শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
লাবণী খাতুন তাঁর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি গত বছর ১৮ জুলাই রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে গৃহ নির্মাণ ঋণের জন্য আবেদন করেন। ওই বছর ৩০ জুলাই তিনি ঋণের প্রথম কিস্তির টাকা উত্তোলন করেন। পরে, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের নকশা অনুমোদন ও প্রাক্কলিত খরচের হিসাব দাখিলের প্রয়োজন হয়। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তার স্বামী এ এস এম আশরাফুল আলম বিরামপুর পৌরসভার নকশাকার রবিউল হাসানের নিকট যান। পরে তার পরামর্শ মোতাবেক পৌরশহরের ঘাটপাড় এলাকায় একটি ৫ তলা বাড়ি নির্মাণের নকশা অনুমোদন ও আবেদন ফরম বাবদ রুপালি ব্যাংক পিএলসি বিরামপুর শাখায় পৌরসভার হিসাব নম্বরে ১৫ হাজার ৬২ টাকা জমা দেন। এছাড়া, তিনি নকশাকার এস এম রবিউল হাসানকে নকশা অনুমোদনের জন্য বোর্ড সভার খরচ বাবদ রশিদ ছাড়াই ৫ হাজার টাকা দেন। সে সময় নকশাকার রবিউল হাসান পরবর্তী সভার সিদ্ধান্তের জন্য তার স্বামীকে অপেক্ষা করতে বলেন।
পরবর্তীতে একই সময়ের মধ্যে বাড়ির নকশার আবেদন করে অন্য ব্যক্তিরা অনুমোদন পেলেও তার স্বামীর আবেদনটি অনুমোদিত না হওয়ায় তিনি পুনরায় পৌরসভায় ওই নকশাকারের নিকট যান এবং নকশা অনুমোদন না হওয়ার কারণ জানতে চান। এ সময় নকশাকার রবিউল হাসান ৫ তলা বাড়ির নকশা অনুমোদন হবে না বলে তার স্বামী এ এস এম আশরাফুল আলমকে জানান। আর নকশা অনুমোদনের জন্য পৌরসভার ১১ সদস্যের কমিটির মধ্যে ন্যুন্যতম ৬ জনের স্বাক্ষর নিতে প্রতি জনের স্বাক্ষরের জন্য ১০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার খরচ লাগবে বলে জানান নকশাকার রবিউল হাসান। বাড়ির নকশার অনুমোদন দিতে পৌর কর্তৃপক্ষের গড়িমসি ও বিলম্ব হওয়ায় তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে সমস্যা পড়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বিরামপুর পৌরসভার নকশাকার এস এম রবিউল হাসান বলেন, বাড়ির নকশার অনুমোদনের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। অভিযোগের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তার ইমেজ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিরামপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিনা খাতুন বলেন, নকশাকার রবিউল হাসানের বিরুদ্ধে বাড়ির নকশা অনুমোদন নিতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। তদন্তে শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তানজিনা খাতুন।
সময়ের আলো/জোই