নেত্রকোনায় মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
গত শনিবার (১৬ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান ঢাকায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) কার্যালয়ে গিয়ে পরদিন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আসামির নমুনা জমা দেন। নেত্রকোনা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিয়াদ মাহমুদ জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আসামির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক জেল হাজতে রয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমান উল্লাহ মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তিনি তার মাদরাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনা কাউকে না জানাতে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিশুটি মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তাকে মদন উপজেলার স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের চেম্বারে নিয়ে গেলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল মেয়েটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় আমান উল্লাহ ও তার ভাইকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে সাগরের ভাই আদালত থেকে জামিন নেন। পরবর্তীতে গত ৬ মে ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দল অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত ১০ মে বিকেলে আসামিকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই গত ১৭ মে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামির ডিএনএ স্যাম্পল জমা দেওয়া হয়।
বর্তমানে ১২ বছর বয়সি ওই শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার মা আদালতের কাছে সুরক্ষার আবেদন জানান। মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১২ মে বিকেলে বিচারকের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়ে (সেফ হোম) পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন ও হেফাজতে রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান জানান, ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/মহু