চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নে সামুদ্রিক মাছভর্তি একটি মিনিট্রাক জব্দকে কেন্দ্র করে রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও উদাসীন ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চাম্বল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আহমদ নুর ও জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ৪-৫ জন কর্মী চাম্বল বাজার এলাকায় মাছভর্তি ওই মিনিট্রাকটি জব্দ করেন। স্থানীয়দের দাবি, জব্দ ট্রাকটিতে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ছিল এবং এটি জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ী ইসমাইল এলাহি ও ছাবেরের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এলাহি ফিশিং’-এর গাড়ি।
অভিযোগ উঠেছে, জব্দ ট্রাকের বিষয়টি বাঁশখালী থানা পুলিশ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আকন এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হলেও কেউ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে পুলিশের একটি রাত্রিকালীন টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শী আহমদ নুর জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ট্রাক জব্দকারীদের উদ্দেশে বলে, ‘আপনারা গাড়ি আটক করেছেন, আপনারাই সকাল পর্যন্ত পাহারা দেন বা যা ইচ্ছে করেন।’ এই কথা বলে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জালাল উদ্দিন জানান, প্রশাসনের এমন খামখেয়ালি ভূমিকা দেখে তারা হতাশ হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে মাছভর্তি ট্রাকটি সেখান থেকে নির্বিঘ্নে চলে যায়।
বর্তমানে সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধরা এই মাছের ট্রাক কেন ছেড়ে দেওয়া হলো? প্রশাসন কি অবৈধ মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে? এভাবে অবাধে মা মাছ ও সামুদ্রিক মাছ নিধন চলতে থাকলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানি আকন জানান, তিনি তখন মাদকের একটি অভিযানে ব্যস্ত থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। সরাসরি পুলিশ পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সরাসরি পুলিশ পাঠাতে পারি না। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় আমি পুলিশের সহযোগিতা নিই। তাই আমি স্থানীয়দের বিষয়টি থানার ওসিকে জানাতে বলেছিলাম।
এদিকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, যারা গাড়িটি আটক করেছিলেন, তারা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিনকে অবগত করেছিল। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাননি। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে না গেলে পুলিশের পক্ষে এককভাবে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার নেই।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাকে অনেকেই ফোন করেছিলেন। কিন্তু সেগুলো সাগরের মাছ নাকি নদীর মাছ, তা দূর থেকে আমি কীভাবে জানব? তবে সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন সরেজমিনে গিয়ে যাচাই-বাছাই বা আইনগত ব্যবস্থা নেননি—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।
সময়ের আলো/জোই