আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোরবানির পশু নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ঘাট দিয়ে ৪২৩টি পশুবাহী ট্রাকসহ মোট ২ হাজার ১৩৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। যাত্রী ও পশুবাহী যানবাহনের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি, ঘাট সংস্কার এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা অভিমুখে আসা পশুবাহী ট্রাকগুলোকে ঘাটে কোনো প্রকার সিরিয়াল ছাড়াই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরাসরি ফেরিতে ওঠার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে চালক ও খামারিদের আগের মতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। তবে তীব্র গরমের কারণে ট্রাকে থাকা পশুদের সুস্থ রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, ঈদুল আজহার দিন যত ঘনিয়ে আসবে, পশুবাহী ট্রাকের চাপ তত বাড়বে। তবে ১৭টি ফেরি ও ৩টি ঘাট সার্বক্ষণিক সচল থাকায় যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
দৌলতদিয়া লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যকরী প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ মল্লিক জানান, ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২০টি এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ১২টি লঞ্চ চলাচল করবে। লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, লঞ্চের ছাদে যাত্রী বহন বা ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের পর গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ায় একটি মর্মান্তিক বাসডুবিতে ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এবার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার।
ঘাট পরিদর্শনে এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পন্টুনের ওপর কোনো ইজিবাইক বা অটোরিকশা উঠতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, আগামী রোববার বা সোমবার তিনি পুনরায় ঘাট পরিদর্শনে আসবেন।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বিগত ঈদের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণে এবার নতুন নিয়ম করা হয়েছে। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের অবশ্যই বাস থেকে নেমে যেতে হবে। এছাড়া পন্টুন এলাকা ছোট গাড়িমুক্ত রাখা হবে এবং ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
রাজবাড়ীতে এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, গত ঈদে যেসব জায়গায় সামান্য ত্রুটি ছিল, এবার তা সংশোধন করা হচ্ছে। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে বাস টার্মিনাল ও সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা ২৫টি থেকে বাড়িয়ে ৬৯টি করা হয়েছে। অন্যদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া জানান, কোরবানির পশুবাহী ট্রলার যেন পথে কোনো বাধার মুখে না পড়ে, সেজন্য বিশেষ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, হাইওয়ে বা জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় কোথাও পশুবাহী ট্রাক আটকানো যাবে না। ঘাটে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রোধে ডিবি পুলিশ, মোটরসাইকেল মোবাইল পার্টি ও জেলা পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এছাড়া ফরিদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘাট এলাকায় একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনসহ মোট ৮৪ জন নৌপুলিশ সদস্য তিনটি টিমে ভাগ হয়ে দিন-রাত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
সময়ের আলো/জোই