মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৫টায় গজারিয়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন রসুলপুর খেয়াঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, আজকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাদের সবাইকে এখানে নিয়ে এসেছেন, তিনি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান। আমরাও তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। বাস্তবতার আলোকে সবকিছু যাচাই-বাছাই করা হবে, কারণ এখানে ফান্ডিংয়ের (অর্থায়ন) একটি বিষয় জড়িত রয়েছে। গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সরকারের আন্তরিকতার কমতি নেই এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে এই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়িয়েছে। ফলে অল্প সময়ের ভেতরে এই সেতু নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ সময় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখানে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এসেছেন। এর থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, জনগণের এই দাবি পূরণে সরকারের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এই স্থানে সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দুই যুগ (২৪ বছর) অতিবাহিত হলেও আলোর মুখ দেখেনি এই সেতু। বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশায় বুক বাঁধছেন গজারিয়ার দুটি ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার ভুক্তভোগী মানুষ।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেহনাহাজুল আলম, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. হামিদা মুস্তফাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই