চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ভাটিয়ারি গ্রামে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া ওই কিশোরীর গর্ভের ৭ মাসের সন্তানকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে নষ্ট (গর্ভপাত) করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে রাজনৈতিক কার্যালয়ে সালিশি বৈঠক ডেকে ধর্ষকের পাশাপাশি উল্টো ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবাকেও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মাহাবুবুল আলম, ফয়জুল হক, রিপন ও চান মিয়া ওরফে চান্দু মিয়াসহ চারজনকে আসামি করে এই মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ এজাহারনামীয় আসামি রিপনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তারা পাহাড়ে কৃষিকাজ ও চা দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে ওই কিশোরী সিডিএ আবাসিক এলাকার মাঠে গরু দেখভাল করার সময় স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মাহাবুবুল আলম তাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে চলতি মাসের ৮ মে ধর্ষক মাহাবুবুল আলমের অনুসারীরা কিশোরীকে জোরপূর্বক চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার গর্ভের ৭ মাসের সন্তানটি নষ্ট করায়। এই ঘটনার পরই পুরো বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
আইনি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় যুবদলের কার্যালয়ে একটি সালিশি বৈঠক বসানো হয়। বৈঠকে তথাকথিত বিচারকরা সিদ্ধান্ত নেন। তারা ধর্ষক মাহাবুবুল আলমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি, ওই টাকা দিয়ে কিশোরীর বিয়ে দেওয়ার অজুহাতে ভুক্তভোগীর বাবাকেও সমপরিমাণ (৫০ হাজার টাকা) জরিমানা করেন।
নির্ধারিত সময়ে ধর্ষক জরিমানার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তার অনুসারীদের নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এমনকি কিশোরীর বাবাকে জিম্মি করে আদালতে নিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। মামলা না তুললে পুরো পরিবারটিকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার দুই নং আসামি ও যুবদল নেতা ফয়জুল হক জানান, সালিশটি দলীয় কার্যালয়ে নয়, বরং রাস্তার ওপর হয়েছিল। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আমি ভুক্তভোগী পরিবারটির ঘরবাড়ি রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। তিনি ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং অলরেডি এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
সামাজিক সালিশে ধর্ষণের বিচার করার কোনো আইনি সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যারা এই তথাকথিত বিচার বা সালিশের নামে প্রহসন করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে জরিমানা করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও বিধি মোতাবেক আইনের আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, গর্ভের সন্তান হারানো এবং ঘরবাড়ি ছাড়ার হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে অসহায় পরিবারটি। তারা প্রশাসনের কাছে জানমালের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই