প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার আশায় সকাল থেকেই মায়ের হাত ধরে ধরার খালের পাড়ে অপেক্ষা করছিল সাত বছরের শিশু সাদাফ হোসেন আহনাফ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজেও প্রিয় নেতাকে কাছ থেকে দেখতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মন খারাপ নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।
শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বইলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খালটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি; ১৯৭৯ সালে এই খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
পরিবারের সদস্যদের মুখে সেই ইতিহাস শুনেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আগ্রহ জন্মায় ছোট্ট আহনাফের। অনেকদিন ধরেই তার ইচ্ছা ছিল প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখার। ছেলের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা হিসেবে মা মহিমা আক্তার তিন সন্তানকে নিয়ে সকালেই অনুষ্ঠানস্থলে চলে আসেন।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগেই শুরু হয় বৃষ্টি। তবুও ছেলেকে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। বৃষ্টিতে কাপড়-চোপড় ভিজে একাকার হয়ে গেলেও আহনাফের চোখে ছিল শুধু প্রধানমন্ত্রীকে দেখার স্বপ্ন।
অনুষ্ঠানস্থলে বিপুল জনসমাগম ও নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে দূর থেকে অনুষ্ঠান দেখতে পেলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডায় কাঁপতে শুরু করে ছোট্ট শিশুটি। আশপাশের লোকজন ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও সে কিছুতেই রাজি হচ্ছিলো না।
একপর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে আহনাফ বলে, সাংবাদিক চাচ্চু, আমাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটু দেখা করিয়ে দিন।
ছেলের এমন আকুতি দেখে কষ্টে ভেঙে পড়েন মা মহিমা আক্তারও। তিনি বলেন, সকাল থেকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছে। ওকে কোনোভাবেই বুঝাতে পারছি না। যদি একটু দেখানোর ব্যবস্থা করা যেত, তাহলে ওর খুব ভালো লাগত।
আহনাফ কাজির শিমলা গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের ছেলে। বর্তমানে পরিবারসহ বইলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় বসবাস করে।
দিনশেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না হলেও ছোট্ট আহনাফের এই অপেক্ষা যেন একটি অন্যরকম গল্প হয়ে রইল। রাষ্ট্রীয় আয়োজনের ভিড়ে একজন শিশুর সরল আবেগ, ভালোবাসা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে তার বৃষ্টিভেজা সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। হয়তো এদিন তার ইচ্ছা পূরণ হয়নি, তবে প্রধানমন্ত্রীকে একবার কাছ থেকে দেখার স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে ছোট্ট আহনাফের হৃদয়ে।
আরবিএন