চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কোরবানির পশুর বাজারে অবৈধ ‘খুঁটি ভাড়া’ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৪ মে) বিকেলে উপজেলার পদুয়া তেওয়ারীহাট পশুর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তবে উপজেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, খুঁটি ভাড়ার নামে বিক্রেতাদের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার পদুয়া তেওয়ারীহাটে প্রতি রবি ও বুধবার দুইদিন পশুর বাজারের ইজারা দেওয়া হয়েছে। পশুর হাটে বিক্রেতারা যাতে সহজে পশু বাঁধতে পারেন, সেজন্য পদুয়া হদ্দার মাঠ ও এর আশপাশে প্রায় ১০ হাজার গাছের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ২০ থেকে ৫০ জনের একটি চক্র এসব খুঁটি স্থাপন করে পশু বিক্রেতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।
নিয়ম অনুযায়ী ইজারাদারের পক্ষ থেকেই খুঁটির ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও, তারা তা করছেন না। ফলে হাটের নির্ধারিত হাসিলের পাশাপাশি খুঁটি ভাড়ার নামে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে পশু বিক্রেতাদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাজারে পশু বিক্রি করতে আসা প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকেরা।
বাজারের অবস্থানভেদে একেক খুঁটির জন্য একেক রকম দাম রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাজারের প্রবেশমুখের খুঁটিগুলোর চাহিদা ও ভাড়া সবচেয়ে বেশি।
ভুক্তভোগী কৃষক নুরুল আলম জানান, তিনি নিজের ২টি গরুর জন্য ২টি খুঁটি ৫০০ টাকা দিয়ে ভাড়া নিতে বাধ্য হয়েছেন।
লোহাগাড়া সদরের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি ১৫টি গরু বিক্রির জন্য বাজারে এনেছি। এই ১৫টি খুঁটির জন্য আমার কাছ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ তামিম নামের এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারের প্রবেশমুখের খুঁটির ভাড়া আকাশচুম্বী। সেখানে তার কাছ থেকে প্রতিটি খুঁটির জন্য ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পদুয়া তেওয়ারীহাট পশু বাজারের ইজারাদারের প্রতিনিধি আবুল হাশেমের দাবি, এসব খুঁটি স্থানীয় লোকজন স্থাপন করেছেন। তারা কষ্ট করে খুঁটি গেড়েছেন বলেই বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিচ্ছেন। এতে পশু বিক্রেতাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে জানালে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে খুঁটির ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পশু বিক্রেতাদের কাছ থেকে খুঁটি ভাড়ার নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হাটে খুঁটির ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ইজারাদারকেই করতে হবে। এ ব্যাপারে ইজারাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই