নিরাপদ ও উচ্চমূল্যের সবজি চাষে ভাগ্যবদল, লাভবান কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর

সারাদেশ

দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের সবজি চাষ। রাসায়নিক কীটনাশক ও বিষাক্ত সারের ব্যবহার ছাড়াই

2026-05-25T11:05:03+00:00
2026-05-25T16:35:21+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
নিরাপদ ও উচ্চমূল্যের সবজি চাষে ভাগ্যবদল, লাভবান কৃষক
নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১:০৫ এএম  আপডেট: ২৫.০৫.২০২৬ ৪:৩৫ পিএম
পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের সবজি চাষ। ছবি : সময়ের আলো
দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের সবজি চাষ। রাসায়নিক কীটনাশক ও বিষাক্ত সারের ব্যবহার ছাড়াই বিশেষ এই পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব সার এবং ক্ষতিকর পোকা দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে হলুদ আঠালো ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদ। এতে স্বল্প শ্রমে ও কম খরচে দ্বিগুণ ফলন পেয়ে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অন্যদিকে বাজারে বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও।

দিনাজপুর সদর উপজেলার ৯ নং আস্করপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা এই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। আর কৃষকদের এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করেছে দিনাজপুরের স্বনামধন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মহিলা বহুমুখী শিক্ষা কেন্দ্র’ (এমবিএসকে)-এর কৃষি শাখা। এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।

সরেজমিনে সদর উপজেলার ৯ নং আস্করপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠজুড়ে অত্যন্ত পরিপাটি সবজি খেত। করলা, পটল, চিচিঙ্গা, কায়তা, মরিচ, বেগুন, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজির খেতে বসানো হয়েছে বিশেষ হলুদ আঠালো ফাঁদ। ক্ষতিকর পোকার উপদ্রব থেকে ফসল রক্ষা করতে কৃষকেরা রাসায়নিকের বদলে ব্যবহার করছেন জৈব সার, কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) এবং নিমের রস।

এমবিএসকে-এর কৃষি কর্মকর্তা হোসেন মো. আবু সুফিয়ান জানান, জৈবিক উপায়ে চাষাবাদ করায় জমিতে রাসায়নিক সার ও বাড়তি সেচের অপচয় হয় না। ফলে ছত্রাক কিংবা বিভিন্ন রোগের আক্রমণ কম হয় এবং সবজির মান ও উৎপাদন দুটোই চমৎকার হয়।


তিনি আরও জানান, এই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকের খরচ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। বর্তমানে একজন কৃষক মাত্র ২৫ শতক জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে সবজি আবাদ করার পর, তা থেকে অনায়াসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ করতে পারছেন।

কৃষি কর্মকর্তার তথ্যমতে, এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব একটি কীটপতঙ্গ দমন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে একটি প্লাস্টিকের বক্সের দুপাশে তিন কোনা ফাঁক থাকে। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে বক্সের ভেতরে কৃত্রিমভাবে স্ত্রী পোকার শরীর থেকে নিঃসৃত এক ধরনের গন্ধ (ফেরোমন লিয়ুর) ব্যবহার করা হয়। এর আকর্ষণে পুরুষ পোকা ফাঁদের দিকে ধেয়ে আসে এবং ভেতরে থাকা সাবান পানিতে পড়ে মারা যায়। এতে কোনো বিষাক্ত স্প্রে ছাড়াই জমির ফসল নিরাপদ থাকে।

আস্করপুর ইউনিয়নের নাগোরপাড়া এলাকার কৃষক হাফিজুর রহমান, আব্দুস সামাদ, রবিউল ইসলাম এবং নারী উদ্যোক্তা নীরেন, সাথী, লক্ষ্মীবাণী ও মৌসুমী জানান, তারা এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করে দারুণ লাভবান হয়েছেন। হলুদ আঠালো ফাঁদ ও নিমের নির্যাস ব্যবহারের ফলে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল পুরোপুরি নিরাপদ থাকছে। বিষমুক্ত এই চাষাবাদ ও বাম্পার ফলন দেখে আশপাশের অন্য কৃষকেরাও এখন এই পদ্ধতিতে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

এমবিএসকে-এর কৃষি কর্মকর্তা হোসেন মো. আবু সুফিয়ান পরিশেষে বলেন, আমরা দিনাজপুরের প্রান্তিক কৃষকদের সংগঠিত করে জৈবিক পদ্ধতিতে নিরাপদ ও উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করছি এবং তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। সুফল পাওয়ায় কৃষকেরা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন। এতে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং ভোক্তারা পাচ্ছেন স্বাস্থ্যসম্মত সবজি। আগামীতে এই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির ব্যবহার জেলাজুড়ে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   নিরাপদ  উচ্চমূল্যের সবজি চাষ  ভাগ্যবদল  লাভবান কৃষক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: