গ্রীষ্মের অন্যতম একটি আরামদায়ক ফল হচ্ছে কাঁচা তাল বা তালের শাঁস। সারাদেশে গরমে কাঁচা তালের শাঁস খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার হিসাবে পরিচিত।
মাগুরার শালিখা উপজেলার হাট বাজার ব্যস্ত সড়কের পাশে বিক্রি করতে দেখা গেছে তালের শাঁস। ক্রেতারাও আগ্রহভরে কিনছে তালের শাঁস। আবার অনেকেই বাড়িতে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন রসালো এ ফল।
তালের শাঁস খেতে অনেকটা নারকেলের মতো। কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা। এর বেশির ভাগ অংশ জলীয় হওয়ায় এটা খেলে দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা দূর হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তালশাঁস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তালে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়রোধ করে ও তন্ত্রের রোগ নিরাময়েও এই ফলের ভূমিকা রয়েছে।
উপজেলা সদর আড়পাড়া বাজারের যশোর-মাগুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার তাল বিক্রেতা ফরিদ উদ্দিন জানান, শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, বয় বৃদ্ধ, সবার কাছে তালের শাঁস প্রিয়। আবার মৌসুমি ফল বলে শখের বসে অনেকেই এটি কিনে খায়। দামে বেশ সস্তা তাই বাজারে এর কদর বেশি।
তালশাঁস ক্রেতা মনিরুল মোল্লা বলেন, আমি মাঝে মাঝে তালশাঁস কিনে খায়। নরম তাল শাঁস খেতে অনেক ভালো লাগে। তাল শাঁস ক্রেতা জামির হোসেন বলেন, ছেলে মেয়েরা তালশাঁস খেতে পছন্দ করে তাই তাল শাঁস কিনছি। প্রতি পিস তালের শাঁস ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গাছের মালিকেরা বলছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরবরাহ কমছে। তবে নুতন তাল গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ মৌসুমে ফলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।
শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবুল হাসনাত জানান, তালের শাঁস শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে, হজমশক্তি বাড়াতে এবং পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক মৌসুমি ফল। গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে যে পানি ও খনিজ উপাদান বের হয়ে যায়, তা দ্রুত পূরণ করতে তালের শাঁসের জুড়ি নেই।
ফসলের মাঠের চারিদিকে তাল চারা রোপন করলে নানা ধরনের পাখি এই গাছে বাসা বাঁধে এবং ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে।
সময়ের আলো/জোই