পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পরিবেশ দূষণকারী একটি রোলিং মিলের ঠিক পাশেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিল্পকারখানার অনবরত কালো ধোঁয়া, বিকট শব্দদূষণ এবং পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে ‘অস্বাস্থ্যকর, ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ বলে দাবি করছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের ফৌজদারহাট স্টেশনের পূর্ব পাশে ‘সীমা রোলিং মিল’ সংলগ্ন প্রায় ৫৪১ শতক বাউন্ডারি বেষ্টিত জমি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’ কর্তৃপক্ষ। জমিটি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত জায়গা। ছবি : সময়ের আলো
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই মিল থেকে সারাদিন বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও বর্জ্য নির্গত হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করে রাখছে। এ ছাড়া মিলের ভারী যন্ত্রপাতির বিকট শব্দে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এমন ঘন শিল্প এলাকায় যেখানে ২৪ ঘণ্টা দূষণের প্রভাব থাকে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘এখানে বিশ্ববিদ্যালয় হলে ছাত্র-ছাত্রীরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হবে। শিক্ষার জন্য প্রয়োজন শান্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, যা এই এলাকায় কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, এবারই প্রথম নয়, এর আগেও অন্য একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একই স্থানে ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে, পরিবেশগত চরম ঝুঁকি, ধোঁয়া ও শব্দদূষণের বিষয়টি বিবেচনা করে এবং তোপের মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য ওই জায়গাটি কেনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছি এবং বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। তবে, দূষণ বা পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের ট্রাস্টি বোর্ড।’
এদিকে পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলছেন, শিল্পকারখানার ঘনবসতিপূর্ণ ও দূষণপ্রবণ এলাকায় যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের আগে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, সুনির্দিষ্ট মতামত এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করা বাধ্যতামূলক। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও সঠিক তদারকি ছাড়া এখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।