পবিত্র ঈদুল আযহার মাত্র একদিন বাকি। শেষ মুহূর্তে পাবনার বেড়া উপজেলায় সরগরম কোরবানি হাট। এ উপজেলায় সরকারিভাবে মোট ৩ টি পশুর হাট রয়েছে। সবচেয়ে বড় হাট সিঅ্যান্ডবি ( চতুরহাট)। এ হাটে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল বিক্রয়ের জন্য নিয়ে এসেছেন খামারিরা। সপ্তাহে শনি এবং মঙ্গল হাটবার হলেও কোরবানি ঈদের জন্য প্রতিদিনই তিনটি হাটে গবাদি পশু ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। এ হাট ছাড়াও নাকালিয়া, বাঁধের হাটে কোরবানির জন্য হাট বসেছে।
রবিবার (২৪ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, হাটগুলো ক্রেতা বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। কোরবানির পশু বিক্রি জমজমাটভাবে চলছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই খুশি। অধিকাংশ ক্রেতাই পশু আগে কিনে বাড়িতে নিয়ে রাখা ঝামেলা মনে করেন, তাই ঈদের এক দুইদিন আগে কিনছেন বলে তারা জানান। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন গরুর হাটে নৌকা ও ট্রাক যোগে ব্যাপারী এবং খামারিরা আরও আগেই গরু নিয়ে গেছেন।
নাকালিয়া পশুর হাটে কথা হয় গরু কিনতে আসা উপজেলার নতুন পেচাকোলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম কালুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা দিয়ে ষাঁড় গরু কিনেছি। মাংস আনুমানিক ৫ মণ হবে। গতবারের চেয়ে তুলনামূলক এ বছর কোরবানির পশুর দাম কম দেখা যাচ্ছে।’
একই হাটের গরুর ব্যাপারী সবুর জানান, মাঝারি এবং ছোট সাইজের গরুর চাহিদা সবসময় বেশি। তাই খামারিদের থেকে এ বছর এমন সাইজের গরু একটু বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এদিকে, ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়ায়ও এগিয়ে রয়েছে উপজেলার পশুর হাটগুলো। অনেকেই স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কলে দেশ-বিদেশে থাকা স্বজনদের গরু দেখাচ্ছেন এবং তারা ভিডিও কলে গরু দেখে দেখে পছন্দ করছেন।
উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক ও ক্ষুদ্র খামারি ইব্রাহিম মুদি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগেও যখন জানলাম চাহিদার তুলনায় আমাদের বেড়ায় দ্বিগুণ গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে, তখন একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভেবেছিলাম, লোকসান হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে কৃষক এবং খামারিদের সেই সংশয়টা কেটে গেছে।’
বেড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি গরুর হাটেই ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এ ছাড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আয়োজনে কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণের বিষয় নিয়ে ইমাম ও কসাইদের একদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ উপজেলায় এবার ৫৩ হাজার ৫ শ খামার, ৯২ হাজার ১২০ টি গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫২ হাজার গবাদি পশু বেশি রয়েছে।
/মহু