একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ গত কয়েকদিন ধরে বাড়ি ফিরছেন। এ ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশ অঞ্চলের মানুষজন ঘরে ফেরার ক্ষেত্রে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ব্যবহার করছেন।
গত কয়েকদিনের মতো মঙ্গলবারও (২৬ মে) ঘাটে যাত্রীদের ঢল নেমেছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে ঘাট এলাকায় তেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। তবে, পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনির অভাবে মঙ্গলবার দীর্ঘসময় ভারী বৃষ্টিতে বহু যাত্রী ভিজে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
সরেজমিন মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দেখা যায়, পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতে অসংখ্য মানুষের ভিড় রয়েছে। যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলও রয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা মেহেরপুরের যাত্রী আমির হোসেনসহ কয়েকজন জানান, তারা বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চে পার না হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ফেরিতে পাটুরিয়া ঘাট থেকে নদী পার হয়ে এসেছেন। ফেরি উত্তাল পদ্মা নদী পারাপারে অধিকতর নিরাপদ।
এদিকে কালবৈশাখি ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এ সময় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় কোরবানির পশুবাহী অনেকগুলো ট্রাক ঘাটে আটকা পড়ে দুর্ভোগের শিকার হয়।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দিন জানান, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে থাকে। বর্তমানে বহরে ১৬টি ফেরির মধ্যে ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
দৌলতদিয়া ৭নং ঘাটে কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের এসআই আবুজর গিফারি জানান, ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তায় তারা কাজ করছেন। আজ আবহাওয়া অনেকটা বৈরী হওয়ার কারণে অসংখ্য যাত্রী ফেরিতে নদী পার হয়ে আসছে। যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য ফেরিঘাটে অ্যাপ্রোচ সড়কের একপাশ দিয়ে শুধুমাত্র যাত্রীদের চলাচলের জন্য আলাদা লেন তৈরি করা হচ্ছে। সেখান দিয়ে চলাচল করতে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার সময় নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীদের বাস হতে নেমে যেতে তারা উদ্বুদ্ধ করছেন।
/মহু