আকাশে সামান্য মেঘ জমলে কিংবা মৃদু বাতাস বইলেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ। গত রবিবার (২৪ মে) থেকে মঙ্গলবার (২৬ মে) পর্যন্ত মাত্র ৩ দিনে (৭২ ঘণ্টার মধ্যে) টানা ৬৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন ছিল কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা। এই সময়ে মাত্র ৪ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ এলেও তা ছিল চরম ওয়ান-টু-ফাইভের মতো (স্থায়ী ছিল মাত্র ১ থেকে ২০ মিনিট)। ঈদের এই মৌসুমে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, ম্লান হয়ে গেছে ঈদের আনন্দ।
নদী বিচ্ছিন্ন রাজীবপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পার্শ্ববর্তী জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তবে সামান্য দুর্যোগের অজুহাতে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা এখানে নিত্যদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে।
ঈদের এই ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শহরের দর্জি পট্টির 'আসিফ টেইলার্স'-এর স্বত্বাধিকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, এমনিতেই এবার ঈদের কাজ কম, তার ওপর যে কটি অর্ডারের কাপড় নিয়েছি, বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারব কি না তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
একই অবস্থা ফ্রিজিং পণ্যের ব্যবসায়ীদেরও। হাইস্কুল গেটের 'আকবর ভ্যারাইটি স্টোর'-এর কর্ণধার ফারুক আহমেদ জানান, গত ৩ দিনের লোডশেডিংয়ে ফ্রিজ বন্ধ থাকায় তার দোকানে প্রায় ১০ হাজার টাকার আইসক্রিম, দই ও কেক নষ্ট হয়ে গেছে।
আহমদ স্টোরের আমিনুল ইসলামও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইসক্রিম গলে যাওয়ায় এবং কোমল পানীয় ঠান্ডা করতে না পারায় তার প্রায় ৩ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জ দিতে না পেরে রাস্তায় নামতে পারছে না ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান। মুন্সীপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক চান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ঈদের সময় ঢাকা ও বাইরে থেকে মানুষ বাড়ি ফেরে। এই সময়ে ট্রিপ বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু কারেন্ট না থাকায় গাড়ি চার্জ দিতে পারছি না, ভ্যান নিয়ে বেরও হতে পারছি না। সরেজমিনে বাজারে গিয়েও দেখা গেছে গণপরিবহণের তীব্র সংকট, যাত্রীরা গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
গত ২৩ মে ঢাকায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে দেশজুড়ে গ্রীষ্ম মৌসুমে ও ঈদ উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শহর ও গ্রামে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বণ্টন এবং কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজীবপুরের গ্রাহকরা এর কোনো সুফলই পাচ্ছেন না।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বৃষ্টি বা সামান্য ঝোড়ো হাওয়া হলেই জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সঞ্চালন লাইন বন্ধ করে দেয়। এরপর ত্রুটি খোঁজার নামে লাইন চেক করতে তারা কয়েকদিন পর্যন্ত সময় কাটিয়ে দেয়। এছাড়া চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার অজুহাত তো রয়েছেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রাজীবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিযোগ কেন্দ্রের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিশিয়াল নম্বরে কল করা হলেও নম্বরটি ব্যস্ত করে রাখায় দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সময়ের আলো/জোই