যুদ্ধবিরতি ভেঙে দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনকারী নৌযান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলেছে তেহরান। দুই দেশের এই নতুন সংঘাতের ফলে চলমান যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই নতুন বিমান হামলার কথা ঘোষণা করার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে রাতভর শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করায় তারা একটি মার্কিন ড্রোন (এমকিউ-৯ রিপার) ভূপাতিত করেছে এবং একটি এফ-৩৫ ফাইটার জেটকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকেই তাদের অবৈধ ও অন্যায্য কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা হরমুজগান অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন করেছে।’ তেহরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তারা এই আগ্রাসনের জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের রক্ষা করতে আজ দক্ষিণ ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।’ হামলার বিস্তারিত না জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত ইরানি নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এই হামলার ফলে ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলেও, কাতারে চলমান শান্তি আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভারতের সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জানিয়েছেন, একটি চুক্তি এখনও সম্ভব। তবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তিনি কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের এই প্রধান রুটটি যেকোনো উপায়ে উন্মুক্ত রাখা হবে।’
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কাতারে অবস্থানরত ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন হামলায় অবরুদ্ধ হয়ে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে। প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর প্রথম ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়করণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন তার প্রভাব হারাচ্ছে। আঞ্চলিক দেশগুলোকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য নিজেদের মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার জন্যও তিনি আহ্বান জানান।
/কহু