ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর ক্রমাগত ড্রোন হামলার জবাবে এবার লেবাননের আরও অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গত ১৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমারেখা অতিক্রম করে আইডিএফ এই অনুপ্রবেশ ঘটায়। লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর ড্রোনের আঘাতে ক্রমবর্ধমান ইসরায়েলি সেনা হতাহতের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। খবর জেরুজালেম পোস্টের
আইডিএফ লেবাননের কতখানি গভীরে প্রবেশ করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পূর্ববর্তী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে একাধিক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা হলুদ সীমানার বাইরে নির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, হিজবুল্লাহর ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ওই অবস্থানগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে ড্রোন হামলা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, আইডিএফের এই অগ্রযাত্রার পরও হিজবুল্লাহ যদি তাদের ড্রোন ও উৎক্ষেপণ দলগুলোকে আরও পেছনে সরিয়ে নেয়, তবে তারা আগের মতোই দূর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইডিএফের এই নতুন অনুপ্রবেশের মূল উদ্দেশ্য কী- তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এটি কি হিজবুল্লাহকে ড্রোন হামলা কমাতে কিংবা আংশিক নিরস্ত্রীকরণে বাধ্য করতে লেবাননের ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কোনো দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, নাকি কেবলই নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা? পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, দেশের সাধারণ মানুষকে এটি দেখানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে আইডিএফ এবং নেতানিয়াহু সরকার অত্যন্ত কঠোর ও দৃশ্যমান জবাব দিচ্ছে।
এই নতুন সংঘাত এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে একটি বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সেই সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে তা পরোক্ষভাবে আইডিএফ এবং হিজবুল্লাহর ওপরও একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি মানার চাপ তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আইডিএফ হলুদ লাইনের সীমানা মেনে চললেও একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছিল। ইসরায়েলের দাবি ছিল, যুদ্ধবিরতির আগে লেবাননের যেসব এলাকা তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল, সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস এবং তাদের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানোর অধিকার আইডিএফের থাকবে। তবে হিজবুল্লাহ এই অবস্থান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে আইডিএফ সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানোর পূর্ণ অধিকার তাদেরও রয়েছে।