বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মামির সঙ্গে ভাগনের অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক দেখে ফেলায় শাহ আলম (৩০) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত যুবকের মামী ও তার পরকীয়া প্রেমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, নিহত শাহ আলমের মামী আরিফা বেগম (৩২) এবং তার পরকীয়া প্রেমিক (সম্পর্কে শাহ আলমের ভাগনে) শাহীন মিয়া (৪৫)। গত সোমবার রাতে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার বিহার ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গত ১৬ মে সকালে স্থানীয় একটি ফসলি জমি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শাহ আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শাহ আলমের প্রবাসী মামার স্ত্রী আরিফা বেগমের সঙ্গে তাদের দূর সম্পর্কের ভাগনে শাহীন মিয়ার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুবাদে গভীর রাতে তাদের নিয়মিত গোপন মেলামেশা চলত। বিষয়টি টের পেয়ে শাহ আলম এর আগেও তার মামী আরিফাকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন।
গত ১৫ মে দিবাগত রাতে মামী আরিফার ঘরে যান প্রেমিক শাহীন। বিষয়টি টের পেয়ে শাহ আলম নিজের কাছে একটি হাসুয়া (ধারালো অস্ত্র) রেখে বাড়ির বাইরে ওঁৎ পেতে থাকেন। গভীর রাতে আরিফা ঘরের দরজা খুলে শাহীনকে বিদায় দেওয়ার সময় শাহ আলম তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শাহ আলমের হাত থেকে হাসুয়াটি কেড়ে নেন শাহীন এবং তা দিয়ে শাহ আলমের মাথায় ও শরীরে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই শাহ আলমের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে রাতেই তার মরদেহ বাড়ির পাশের ফসলি জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।
সময়ের আলো/জোই