পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ঝিলাম জেলায় আঘাত হানা ভূমিকম্পে অন্তত একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় পিন্ড দাদান খান তহসিলের জালালপুর শরিফ এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে প্রায় ১০টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝিলামের জেলা প্রশাসক মীর রেজা ওজগেন জানিয়েছেন, পাঞ্জাবের ঝিলাম জেলার পিন্ড দাদান খান তহসিলের জালালপুর শরিফ এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন, ভূমিকম্পে প্রায় ১০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদফতর (পিএমডি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৬ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।
পিএমডি জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১২ কিলোমিটার এবং এর উপকেন্দ্র ছিল ঝিলাম থেকে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। উপকেন্দ্রের অবস্থান ছিল ৩২.৫৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৭৩.২৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) জানান, পুলিশ, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা, তল্লাশি ও ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন অব্যাহত রয়েছে।
পিন্দ দাদান খান উপজেলার সহকারী কমিশনার আয়েশা শাফকত জানান, আহত ১২ জনকে জালালপুর শরিফের গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে গুরুতর আহত আটজনকে ঝিলাম জেলা সদর (ডিএইচকিউ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ঝিলাম জেলার জরুরি কর্মকর্তা ফারহান মির্জা এক বিবৃতিতে জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিটে রেসকিউ ১১২২ একটি জরুরি কল পায়। সেখানে জানানো হয়, ভূমিকম্পে একটি বাড়ির প্রথম তলা ধসে পড়েছে এবং কয়েকজন মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
তিনি বলেন, রেসকিউ ১১২২-এর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সেখানে ছয়জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয় এবং এক কিশোরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, পিন্দ দাদান খানের সাগরপুর, দরিয়ালা জলিপ, হরনপুর ও জৈতিপুর এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জালালপুর শরিফ ও পিন্ডি সৈয়দপুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে ৪ মে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতেও ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। পিএমডি জানায়, ওই ভূমিকম্পটি সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে রেকর্ড করা হয় এবং এর উপকেন্দ্র ছিল তাজিকিস্তান-শিনজিয়াং সীমান্ত অঞ্চলের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১২৮ কিলোমিটার।
এছাড়া ৩ এপ্রিল রিখটার স্কেলে ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশ কাঁপিয়ে দেয়। পিএমডি জানায়, রাত ৯টা ১৩ মিনিটে ১৯০ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন ওই ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চল।
ইসলামাবাদ, চিত্রাল, পেশোয়ার, সোয়াত ও সাংগলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ওই কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান আরবীয়, ইউরেশীয় ও ভারতীয়—এই তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ফলে দেশটিতে ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়ে থাকে।