বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) ভোররাত ২টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর এলাকা থেকে স্থানীয় জেলে ও নৌ পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। এর মধ্য দিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ তিনজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
উদ্ধারকৃতরা হলেন, নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫) ও তার ছেলে ইব্রাহিম জোমাদ্দার (১২)। এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে পুরাতন হিজলা এলাকা থেকে মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫) নামের অন্য নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মৃতদের সবার বাড়ি স্থানীয় একই গ্রামে।
হিজলা নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে নৌকাডুবির ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও স্থানীয় জেলেরা নিখোঁজদের সন্ধানে যৌথ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত (বুধবার ভোররাত) ২টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জের ভাসানচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দুটি মরদেহ ভাসতে দেখে জেলেরা নৌ পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা এসে মরদেহ দুটি নুর ইসলাম ও তার ছেলে ইব্রাহিমের বলে শনাক্ত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সোমবার বিকেলে সরকারি ওএমএসের (জেলে কার্ডের) চাল নিয়ে আটজন যাত্রী একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রাপথে নৌকাটি পুরাতন হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন নদী থেকে পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নুর ইসলাম জোমাদ্দার, তার শিশুসন্তান ইব্রাহিম এবং মো. হারুন বিশ্বাস নিখোঁজ হন।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজ বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সময়ের আলো/জোই