নওগাঁর ধামইরহাটে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে কয়েক হাজার একর বেরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে উপজেলার পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে করে অর্থনৈতিক চাপে পড়ার আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
সরেজমিন উপজেলার আলমপুর, ইসবপুর, আড়ানগর, খেলনা ও ধামইরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। বিশেষ করে খুকশী খাড়িসহ ডোবা ও এর আশপাশের নিম্নাঞ্চলের পাকা ধান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবে থাকা অধিকাংশ ধান কালো বিবর্ণ রূপ ধারণ করে পচে যেতে দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে কিছু ধানের শেকর গজাতেও দেখা গেছে।
কৃষক ও কৃষাণীরা পাতিল, প্লাস্টিকের ড্রাম এবং কলার গাছ কেটে ভেলা বানিয়ে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে সাঁতার কাটিয়ে সড়ক বা উচু জায়গাতে তোলার চেষ্টা করছেন। ধান কাটা শ্রমিকের সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে নিজেরাই খেতের ধান কাটছেন বলে জানান কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ আগে মাঠের ধান পেকে কাটার উপযোগী হয়ে ওঠে। কিন্তু একদিকে কোরবানির ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ততা অন্যদিকে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকটের কারণে সেই ধান কাঁটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এরই মধ্যে হঠাৎ টানা বৃষ্টির কারণে খেতের সব ধান এক বুক পানির নিচে ডুবে গেছে।
তারা আরও জানান, বন্যার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা দেখে মনেই হবে না যে, কদিন আগে এখানে বোরো ধানের খেত ছিল। ধারদেনা করে চাষাবাদ করা ধান যদি এভাবে পানির নিচে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বছরের খাবারের চাল তৈরিসহ ঋণের টাকা শোধ করবেন কিভাবে এই উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের। এই ক্ষতি থেকে উত্তরণের জন্য কৃষকদের পক্ষ থেকে কৃষি কার্ডের দাবিও জানানো হয়।
তালঝাড়ি এলাকার কৃষক রত্না রাণী জানান, গতবছর স্বামীর মৃত্যুর কারণে বাসা বাড়িতে কাজকর্ম করে যে টাকা জমা করেছিলেন তা দিয়ে ৭ শতাংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। এরপর কদিন বৃষ্টিতে সব ধান পানিতে ডুবে গেছে। ঈদের কারণে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। একারণে ছেলে এবং ভাসুরকে সঙ্গে নিয়ে ধান কাটতে এসেছেন।
পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্গা চাষী আজিজার রহমান বলেন, দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান লাগিয়ে ছিলাম। দুইদিন আগে তেরশো টাকা মজুরি দিয়ে একদল শ্রমিকদের সঙ্গে ধান কাটতে চুক্তিও করা হয়। তার আগেই সব ধান পানির নিচে তলিয়ে গেল। এখন অর্ধেক ধান দিতে চেয়েও সেই ধান আর কাটতে চাইছে না শ্রমিকরা। এমন অবস্থায় ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেলোয়ার হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, কুরবানী ঈদের কারণে ধান কাটা শ্রমিকেরা ঘরমুখী হাওয়ায় ডুবে যাওয়া ধান নিয়ে কৃষকেরা বিপদে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে পরবর্তীতে আমন ধানের প্রণোদনার পাশাপাশি সরকারের দেওয়া কৃষি কার্ডের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে। এতে করে তারা অনেকটাই লাভবান হবেন।
সময়ের আলো/জোই