ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এক ‘অত্যাচারী শাসক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বের সমস্ত মুসলমানরা খুব শীঘ্রই ঐক্যবদ্ধ হবে এবং একদিন এই মুসলিম উম্মাহর হাতেই নেতানিয়াহুর উপযুক্ত শিক্ষা হবে।
বুধবার (২৭ মে) ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক চামলিজা মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন।
চলমান সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার কথা স্মরণ করে এরদোগান বলেন, “আমাদের আধ্যাত্মিক ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গাজায় যেসব ভাই-বোনেরা চরম দুঃখ, কষ্ট এবং গভীর বেদনার মধ্য দিয়ে এই খুশির ঈদকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আমি, আমার ও তুর্কি জনগণের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি গভীর সংহতি জানাচ্ছি।”
তিনি যোগ করেন, ধর্মীয় উৎসবগুলো মূলত পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংহতিকে শক্তিশালী করার দিন হলেও এবার গাজার রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি তুরস্কসহ পুরো বিশ্বের মুসলমানদের ঈদ উদ্যাপনে বিষাদের কালো ছায়া ফেলেছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, নেতানিয়াহুর মতো গণহত্যাকারী শাসককে একদিন মুসলিমরাই উচিত শিক্ষা দেবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখছে তুরস্ক। এরদোগান আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, গাজায় মানবিক সহায়তার পরিধি বাড়ানো এবং ইসরাইলের ওপর কঠোর বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
এদিকে গাজা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৬ মে) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট এরদোগান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ টেলিফোনে কথা বলেছেন। ফোনালাপে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের পাশাপাশি, গাজা সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
সময়ের আলো/জেডি