নতুন করে রাশিয়ার তীব্র হামলার হুমকির মুখে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক চেয়েছেন। বুধবার (২৭ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প ও মার্কিন কংগ্রেসের উদ্দেশে পাঠানো এক বিশেষ চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ইউক্রেনকে রক্ষায় আমি আপনাদের সহায়তা চাইছি। প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর কিনতে ইউক্রেন প্রস্তুত রয়েছে।’
ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উন্নত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। তবে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বর্তমানে এসব ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের তীব্র ঘাটতিতে ভুগছে দেশটি।
জেলেনস্কি তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন, ন্যাটোর ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ বা পিইউআরএল কর্মসূচির মাধ্যমে ইউরোপীয় মিত্রদের দেওয়া অর্থায়নে ইউক্রেন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে। কিন্তু বর্তমান মজুত রাশিয়া থেকে আসা অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির তুলনায় একেবারেই যথেষ্ট নয়।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া তাদের সর্বশেষ বড় ধরনের বিমান হামলায় একযোগে ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, যার মধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনী মাত্র ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
চিঠিতে জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, ওই হামলায় রাশিয়া প্রথমবারের মতো দুটি পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে। এর একটি ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে এবং অন্যটি রাশিয়ার দখলকৃত দোনেৎস্ক এলাকায় আঘাত হানে বলে নিশ্চিত করা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতদিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অস্ত্রের দিক থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন, ততদিন তিনি কোনো ধরনের কূটনৈতিক বা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোবেন না। বর্তমানে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: রয়টার্স
সময়ের আলো/টিএইচ