কুয়েতে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই একটি স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। তিন মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বর্ধিত করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত কার্যকরের বিষয়টি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। গত বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষ এই বিষয়ে একমত হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। খবর আরব নিউজের
সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বর্ধিত ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার টেবিলে সবার আগে স্থান পাবে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় তা নির্ধারণ করা। অবশ্য এই সমঝোতা প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হওয়ার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে যাওয়ার সুপ্ত আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম হঠাৎ নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে গত বুধবার হোয়াইট হাউজে এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তেহরানের সাথে চলমান আলোচনার অগ্রগতিতে তিনি এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি ‘অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’ নিয়ে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আলোচনা করছে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
চলমান এই যুদ্ধবিরতি যে কতটা ভঙ্গুর, তা গত কয়েকদিনের সীমিত কিন্তু ভয়াবহ কিছু হামলার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যখন পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উদযাপিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের নতুন করে দ্বিতীয় দফার উত্তেজনা দেখা দেয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে এবং পাঁচটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত একটি বৃহৎ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে কুয়েতি বাহিনী তা আকাশেই ধ্বংস করে দেয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এই হামলার দায় স্বীকার করে তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছে,বন্দর আব্বাসে মার্কিন হামলার জবাবেই তারা কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘পাল্টা আঘাত’ হেনেছে। কুয়েত সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে মারাত্মক উসকানি হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো সামগ্রিক শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে এর মধ্যেই ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় টায়ার শহরের হিজবুল্লাহর অবকাঠামো এবং রাজধানী বৈরুতে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, ইসরাইলি হামলায় তাদের একজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, লেবানন থেকে ছোঁড়া রকেটের কারণে উত্তর ইসরাইলে অনবরত বিমান হামলার সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।
/কহু