‘আমরা ধীরে ধীরে মরছি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

‘যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা আজ কোথায়?’— ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের এই আকুল প্রশ্নই এখন সমগ্র গাজা

2026-05-29T15:39:48+00:00
2026-05-29T15:39:48+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘আমরা ধীরে ধীরে মরছি’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
‘যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা আজ কোথায়?’— ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের এই আকুল প্রশ্নই এখন সমগ্র গাজা উপত্যকার বাস্তব চিত্র। গত অক্টোবর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া বহুল আলোচিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গাজা উপত্যকা জুড়ে বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ আরও তীব্র করেছে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এবং উত্তর গাজার ঐতিহাসিক আল-শাতী শরণার্থী শিবিরে চালানো এই নতুন দফার হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যেও ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের অনবরত বোমাবর্ষণে গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে চরম হাহাকার নেমে এসেছে। ঘরবাড়ি হারানো বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো যখন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় আশ্রয়ের জন্য ছুটছেন, ঠিক তখনই এই মরণঘাতী হামলা চালানো হয়।  হামলার পর এক ফিলিস্তিনি ক্ষোভ ও আর্তনাদ ভরা কণ্ঠে বলেন, আমরা কোনো বোমাবর্ষণ ছাড়া একটা দিনও পার করতে পারছি না। আমরা এখানে প্রতি মুহূর্তে ধীরে ধীরে মরছি।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, মে মাস জুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে গাজার সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার মুখে দাঁড়িয়েছে। গত দুই দিনে আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হামলায় সিনিয়র কমান্ডারসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামাস এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং চুক্তির গ্যারান্টার দেশগুলোকে ইসরাইলের এই আগ্রাসন বন্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কূটনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর। গত বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের একটি অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে গাজার ভূমির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আমাদের গাজার ৫৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা ছিল। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে গাজা উপত্যকার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছি এবং আমাদের সামরিক বাহিনীকে গাজার অন্তত ৭০ শতাংশ অঞ্চল পুরোপুরি কবজায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জানায়, ইসরাইলের এই আগ্রাসী নীতি এবং বিমান হামলা গাজার ২২ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের এই ধারাবাহিক নৃশংসতা ও উচ্ছেদ অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলছে।

/কহু


  বিষয়:   গাজা  ইসরায়েল  যুদ্ধ  রেড ক্রস 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: