নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে গুরুতর আহত যুবক হিরো (২২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়। তবে শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসে।
নিহত হিরো নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দবাজার এলাকার মনির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মে (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ওই শিশুকে ২০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ক্ষেতের নির্জন স্থানে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। শিশুটি বাড়িতে ফেরার পর তার মা বিষয়টি বুঝতে পারলেও লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে গোপন রাখেন। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই রাতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অভিযুক্ত হিরোকে ধরে গাছের সাথে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় হিরোকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একই এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে সোহেল নামের অপর এক যুবককে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হিরোকে প্রধান আসামি এবং তাকে সহযোগিতার অভিযোগে সোহেলকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হিরোর মৃত্যু হয়েছে। গণপিটুনির এই ঘটনায় আলাদা একটি মামলা দায়ের করা হবে।’
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা মিলেছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগী শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
সময়ের আলো/জেডি