গাজা উপত্যকায় নতুন করে বড় ধরনের বাস্তুচ্যুতির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়ার পর এই চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে ইতোমধ্যে বহুবার ঘরবাড়ি হারাতে হওয়া ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত জন্ম দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির কোনো কার্যকারিতা মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গাজা সিটিতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ আল-জুন্দি। তিনি জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবরে নির্ধারিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমানা লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি সেনারা অনবরত সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে আল-জুন্দি বলেন, ‘বিশ্ব আর কতদিন এই ইস্যুতে নীরব থাকবে? আমাদের এখন কী করার আছে? আমরা চাই বিশ্ববাসী আমাদের পাশে দাঁড়াক, যাতে এই দখলদারিত্বের অবসান ঘটে। আমরা চাই ইসরায়েলি বাহিনী গাজা ছেড়ে চলে যাক, যেন আমরাও পৃথিবীর অন্য সব মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি।’
গাজা সিটিতে বসবাসকারী আরেক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ আল-শাগরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যদি গাজার ৭০ শতাংশ এলাকাই দখল করে নেয়, তবে আমরা কোথায় আশ্রয় নেবো?
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কোথায় যাব? পানিতে, নাকি সমুদ্রে ঝাঁপ দেব? আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, পালানোর মতো কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায় এবং নিষ্ঠুর।’
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা অবিরাম হামলা, খাদ্য ও চিকিৎসার অভাব এবং বারবার বাসস্থান পরিবর্তনের পর নেতানিয়াহুর এই নতুন পদক্ষেপ অবরুদ্ধ গাজাবাসীকে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি