ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি ঘিরে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আবারও ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। যদিও এবার ঈদের ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক পাননি, তবুও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে সমুদ্রসৈকত ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বেড়েছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতি।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের বালুকাবেলায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখা গেছে পর্যটকদের ভিড়। বিশেষ করে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত এলাকায় পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দমুখর সময় কাটাতে দেখা গেছে আগত দর্শনার্থীদের।
পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের ঈদগুলোর তুলনায় এবার আগাম বুকিং কম ছিল। টানা ছুটি থাকলেও ছুটির দিনগুলো সাপ্তাহিক বন্ধের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনেকেই দীর্ঘ ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেননি।
তবে ঈদের পরবর্তী কয়েক দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন হোটেল, রিসোর্ট ও ট্যুর অপারেটররা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বুকিং পাওয়া গেছে।
কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের বড় একটি অংশ এখন শুধু সমুদ্রসৈকতেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্রও আকর্ষণ করছে দর্শনার্থীদের।
ট্যুর অপারেটরদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজারে বিকল্প পর্যটন গন্তব্যের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ফলে পর্যটকরা এখন সমুদ্রস্নানের পাশাপাশি পাহাড়, দ্বীপ, বনাঞ্চল এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও ঘুরে দেখছেন।
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, টেকনাফ ন্যাচার পার্ক এবং মেরিন ড্রাইভ এখন ভ্রমণকারীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। সমুদ্র, পাহাড় ও সবুজ প্রকৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এসব এলাকায় প্রতিদিন শত শত পর্যটক ঘুরতে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন
একইভাবে চকরিয়ার নিভৃতে নিসর্গ পার্ক, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এবং টেকনাফের জাহাজপুরা গর্জন বন প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজারের রামু অঞ্চলের বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির এবং ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ এখনো দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জানতে আগ্রহী পর্যটকদের কাছে এসব স্থান আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
ঈদ উপলক্ষে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমুদ্রসৈকত ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফগার্ড এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন।
সৈকতে গোসলরত পর্যটকদের নিরাপদ রাখতে লাইফগার্ড সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজার এখন শুধু সমুদ্রসৈকতনির্ভর পর্যটন নগরী নয়। পাহাড়, বন, দ্বীপ, ধর্মীয় স্থাপনা, বন্যপ্রাণী এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সমন্বয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন জেলায় রূপ নিচ্ছে।
তাদের বিশ্বাস, পর্যাপ্ত অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে বছরের সব সময়ই কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়বে। এতে শুধু পর্যটন খাত নয়, স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও গতিশীল হবে।
এএডি/