ভারতের রাজস্থান রাজ্যের চুরু, হনুমানগড়, শ্রীগঙ্গানগর, বিকানের ও সিকার জেলায় ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে ধূলিঝড় বয়ে গেছে। মাত্র আধ ঘণ্টার ঝড়ের তাণ্ডবে এই পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
শনিবার (৩০ মে) দুপুর ২টা নাগাদ ধুলোর প্রকাণ্ড মেঘে আকাশ ছেয়ে যাওয়ায় দিনের আলোয় রাতের অন্ধকার নেমে আসে এবং ধুলোমাখা বাতাসের তীব্রতায় সড়কে দৃশ্যমানতা শূন্যে নেমে আসায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়।
এনডিটিভি ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বিশাল দৈত্যাকার ধুলোর ঝড় শহরের দিকে ধেয়ে আসতে দেখা গেছে, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকাকে ধুলোর চাদরে ঢেকে দেয়।
চারপাশে একটি ভুতুড়ে হলুদ-বাদামী আভা তৈরি হওয়ায় পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করেন এবং আতঙ্কিত দোকানদাররা তাড়াহুড়ো করে বাজারের সাটার নামিয়ে দেন। বাতাসের প্রচণ্ড বেগে বহু গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে এবং কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গিয়ে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দফতর ‘মৌসম ভবন’ জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হওয়ার কারণে এই ভয়াবহ ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই রাজস্থানের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ঘোরাফেরা করছিল, যা গত শুক্রবার ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যায়। তীব্র এই তাপপ্রবাহের পরেই শনিবার দুপুরের দিকে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে এই প্রবল ধূলিঝড় আঘাত হানে।
তাছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের ধোলপুর জেলার বারিতে সর্বোচ্চ ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতও রেকর্ড করা হয়েছে। জয়পুরের আবহাওয়া কেন্দ্র তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, শনিবার বিকানের, জয়পুর, আজমির, ভরতপুর, কোটা, যোধপুর এবং উদয়পুর বিভাগের কিছু অংশে তীব্র বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
সেইসঙ্গে রাজ্যের কিছু কিছু অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের বিশেষ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী চার থেকে পাঁচ দিন রাজস্থানের বিভিন্ন অংশে এই ঝড়-বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি