চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূল হয়ে সাগরের তলদেশ দিয়ে সন্দ্বীপে আসা জাতীয় গ্রিডের একমাত্র বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগের সাবমেরিন ক্যাবলটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। সন্দ্বীপের বাউরিয়া উপকূলে তীব্র নদী ভাঙনের ফলে গত কয়েকদিনে ক্যাবলের ওপর থেকে মাটি সরে গিয়ে প্রায় ২০ ফুট পাইপ সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
এই বিপজ্জনক পাইপের ওপর দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের ছবি ও ভিডিও তোলার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সন্দ্বীপ বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মূল ভূ-খণ্ডের সাথে সন্দ্বীপের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে সাগরের তলদেশ দিয়ে এই সাবমেরিন ক্যাবল টানার কাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালের নভেম্বরে সন্দ্বীপে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চালু করা হয়। সন্দ্বীপের ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ ফুট গভীর দিয়ে ৩৩ হাজার কেভির (KV) এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাবলটি বাউরিয়া সাব-স্টেশনে নিয়ে আসা হয়েছিল। ক্যাবল স্থাপনের সময়ে বাউরিয়া প্রান্তে কোনো নদী ভাঙন ছিল না।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছর থেকে এই এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হলেও চলতি মৌসুমে তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ভাঙনের কারণে বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পূর্বে সাগরের কূলে ক্যাবলের ওপরের মাটি সম্পূর্ণ ধুয়ে গেছে। ফলে ভাটার সময় জোয়ারের পানি কমে গেলে সাবমেরিন ক্যাবলের মূল পাইপটি সম্পূর্ণ নগ্ন ও অরক্ষিত অবস্থায় ভেসে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বেলাল শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘গত এক বছরে এই এলাকার প্রায় ৫০০ মিটার ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাইপটি যেভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে, তাতে জোয়ারের সময় চলাচলকারী ট্রলার বা নৌকার ইঞ্জিনের পাখার (প্রোপেলার) আঘাতে যে-কোনো সময় এটি কেটে যেতে পারে। এতে পুরো সন্দ্বীপ যেমন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটহীন হয়ে পড়বে, তেমনি সাগরের পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় শিশু-কিশোর ও অতিউৎসাহী পর্যটকরা এই বিপজ্জনক উচ্চ ভোল্টেজের পাইপের ওপর দাঁড়িয়ে হেঁটে হেঁটে ছবি তুলছেন ও ভিডিও বানাচ্ছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর রোববার (৩১ মে) সকালে সন্দ্বীপ বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা পেয়েছে।
সন্দ্বীপ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘সাবমেরিন ক্যাবলের এই অরক্ষিত পাইপটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বালুর বস্তা বা জিওব্যাগ দিয়ে সুরক্ষিত করার জন্য আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরের সাথে জরুরি যোগাযোগ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি ৩৩ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কেউ যেন অতিউৎসাহী হয়ে এই পাইপের ওপর না ওঠেন বা এর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি-ভিডিও না করেন। এটি জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।’
জরুরি ভিত্তিতে এই সাবমেরিন ক্যাবলটি পুনরুত্থাপন বা পাইলিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষিত করা না হলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও বেড়ে সন্দ্বীপের একমাত্র বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সময়ের আলো/জেডি