চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগে মো. জামাল (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং সড়কে ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বাকলিয়া থানাধীন চাকতাই ভেড়া মার্কেট এলাকায় এই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।
গ্রেফতারকৃত মো. জামাল (৩৫) ভোলা জেলার শশিভূষণ থানার চরফকিরহাট গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাকলিয়ার চাকতাই ভেড়া মার্কেট এলাকার নাসির কলোনিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে চাকতাই ভেড়া মার্কেট এলাকায় ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে একা পেয়ে কোমল পানীয় খাওয়ানোর প্রলোভন দেখায় জামাল। এরপর সুকৌশলে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রোববার (৩১ মে) বিকেলের দিকে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জামালকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ যখন জামালকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলছিল, তখন শত শত ক্ষুব্ধ জনতা একযোগে এসে পুলিশ ভ্যানটি ঘেরাও করে ফেলে। তারা এই জঘন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে।
পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উত্তেজিত জনতা সড়কের ওপর কিছু যানবাহন ও স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর পুলিশ কঠোর নিরাপত্তায় আসামিকে নিরাপদে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় উত্তেজিত জনতা আবেগের বশে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার একটি চেষ্টা চালিয়েছিল, যার ফলে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে আমরা পরিস্থিতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে এসেছি। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
সময়ের আলো/জেডি