সরকার ও ব্যবসায়ীদের অবশ্য করণীয়

মোছা. নূরজাহান খাতুন

মতামত

শিল্প আয়ে এ খাতের অবদান প্রায় ২ শতাংশ আর রফতানিতে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। মূল্য সংযোজনে প্রায় ৮০ শতাংশ। এই

2026-06-02T15:12:33+00:00
2026-06-02T15:12:33+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
মতামত
চামড়া শিল্পে সংকট
সরকার ও ব্যবসায়ীদের অবশ্য করণীয়
মোছা. নূরজাহান খাতুন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৩:১২ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
শিল্প আয়ে এ খাতের অবদান প্রায় ২ শতাংশ আর রফতানিতে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। মূল্য সংযোজনে প্রায় ৮০ শতাংশ। এই খাতের সঙ্গে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। চীন, ইতালি, ভিয়েতনাম, ভারত, ফ্রান্স, ব্রাজিল, তুরস্ক, স্পেন, মেক্সিকো, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিকারক দেশ। মূলত আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও লেদার ওয়ার্কিং  গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদের বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে বাংলাদেশের রফতানি আয় ধীরগতির হলেও চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশ এ শিল্পে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চামড়া ও চামরাজাত পণ্য দেশ শুরুর লগ্ন থেকেই রফতানিজাত পণ্য এবং এই শিল্পের কাঁচামাল বাংলাদেশের পশুসম্পদ থেকেই সরাসরি আসে। তবে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বহুবিধ চ্যালেঞ্জে জর্জরিত এ খাতটি।  

চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা
১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা : ঈদুল আজহা ও সারা বছর বিপুল পরিমাণ গবাদিপশুর চামড়ার নিরবচ্ছিন্ন জোগান রয়েছে দেশে।

২. সস্তা শ্রম : এ খাতে প্রচুর পরিমাণে সাশ্রয়ী মূল্যের শ্রমিক পাওয়া যায়, যা উৎপাদন খরচ কমায়।

৩. বড় বৈশ্বিক বাজার : চীন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে উচ্চমানের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

৪. কর্মসংস্থান : বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়নে এ খাত অনন্য ভূমিকা পালন করে।

৫. রফতানি আয় বৃদ্ধি : সঠিক নীতিমালা ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি আয় অর্জন সম্ভব।
আরও পড়ুন

বাংলাদেশ সাধারণত সুতির বস্ত্র ও নিটওয়্যার, পাট ও পাটজাত পণ্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাবার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, গৃহস্থালি বস্ত্র, ওষুধপত্র, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, 
প্লাস্টিক, বাইসাইকেল, ইলেকট্রনিক ও প্রযুক্তিগত পণ্য রফতানি করে থাকে। 

একসময় পাট, চা ও চামড়া ছিল অন্যতম রফতানি খাত। রফতানিতে পাট ও চা অনেক আগেই সেই জৌলুস হারিয়েছে। এখন চামড়া খাতও অনেকটা সেই পথে। চামড়া শিল্পের এই দৈন্যদশার জন্য মূলত দুই ধরনের সমস্যা রয়েছে- কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক।

কারিগরি সমস্যা
১. ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং লস্ট রেভিনিউ : ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট খুব দুর্বল। ফলে চামড়া শিল্প শুরুতেই ২০-৩০ শতাংশ গুণগত ত্রুটির সম্মুখীন হয় যা আল্টিমেট রেজাল্টে রেভিনিউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. কোল্ড চেইন অ্যান্ড প্রিজারভেশন : উপজেলা থেকে জেলা শহরে ডিসেন্ট্রালাইজ কোল্ড চেইন প্রিজারভেশন নেই। যে শিল্পের কাঁচামাল আমাদের হাতের নাগালে সেই শিল্প ব্যবহার করে রেভিনিউ আয় করা, রফতানি আয় বাড়ানোর জন্য এই প্রিজারভেশন এখনই জরুরি ভিত্তিতে থাকতে হবে।

৩. হিউম্যান স্কিল ইঞ্জিনিয়ারিং : হাত দিয়ে চামড়া ছাড়ানো, লবণ ছিটানো ও চামড়া কেটে যাওয়া ইত্যাদি কারণে পুরো সাপ্লাই চেইনে কোয়ালিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কাজে নিয়োজিত অপ্রশিক্ষিত জনবলই এর প্রধান কারণ।

৪. ন্যাশনাল লেদার স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক করা : ন্যাশনাল লেদার স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক করা দরকার। যেখানে সাইন্টিফিক উপায়ে চামড়া সংগ্রহ থেকে শুরু করে রফতানি করা পর্যন্ত অপচয় রোধের বিষয়গুলোও থাকবে।

প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাগুলো
১. দক্ষ কর্মীর অভাব : চামড়া শিল্প শ্রমনিবিড় হলেও এখানে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত ও দক্ষকর্মীর ঘাটতি রয়েছে। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সীমিত এবং অনেক কর্মীর আধুনিক চামড়া প্রক্রিয়াকরণ কৌশলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব রয়েছে, যা পণ্যের গুণমান এবং উদ্ভাবনকে প্রভাবিত করে।

২. এলডব্লিউজি সনদ/কমপ্লায়েন্সের অভাব
উন্নত দেশে চামড়া শিল্প রফতানি করতে এলডব্লিউজি সনদ দরকার। এলডব্লিউজির সনদ পেতে চামড়া শিল্পের পরিবেশগত মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ১৭টি বিষয়ে ১ হাজার ৭১০ নম্বর পেতে হয়।

যার মধ্যে ৩০০ নম্বর রয়েছে সিইটিপি সংক্রান্ত, যেটি কেন্দ্রীয় দায়িত্ব বা সরকারের দায়িত্ব। বাকি ১ হাজার ৪১০ নম্বর রয়েছে জ্বালানি খরচ, পানির ব্যবহার, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, চামড়ার উৎস শনাক্তকরণ, দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার মান ইত্যাদি। এসব মানদণ্ড পূরণের দায়িত্ব ট্যানারি মালিকদের। বাংলাদেশে চামড়া ব্যবসায়ীদের বর্তমানে ১৫ থেকে ২০টি ট্যানারির এলডব্লিউজি সনদের শর্ত পূরণ করার সক্ষমতা রয়েছে। তারা অন্যান্য মানদণ্ডে ভালো নম্বর পেলেও সিইটিপি সংক্রান্ত নম্বরে পিছিয়ে রয়েছে, ফলে সনদও মিলছে না। সাভারে সরকার পরিপূর্ণ সিইটিপি গড়ে তুলতে পারেনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চামড়া খাতের ১ হাজার ২০৬টি প্রতিষ্ঠান এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে। এই সনদ পাওয়া বেশি কোম্পানি রয়েছে ইতালিতে ২৫৪টি, ভারতে ২৫১টি এবং চীনে ২০৬টি সনদ পাওয়া কারখানা আছে। অপরদিকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সনদ পাওয়া কারখানা রয়েছে মাত্র ৭টি। এর মধ্যে ৩টি কারখানা কাঁচা চামড়া থেকে ফিনিসড লেদার উৎপাদন করে। একসময় ইউরোপের দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে চামড়া নিত। প্রতি বর্গফুট চামড়ার দর ছিল অন্তত এক ডলার। কমপ্লায়েন্সের অভাব থাকায় এখন ইউরোপের ক্রেতারা নিচ্ছে না। ফলে একরকম বাধ্য হয়ে চীনে রফতানি করতে হচ্ছে পানির দরে অর্থাৎ ৫০ থেকে ৬০ সেন্টে । মূলত এলডব্লিউজি সনদ না থাকায় রফতানি বাজার ক্রমশ সংকীর্ণ হচ্ছে।

৩. দূষিত পরিবেশ  
পরিবেশদূষণ রোধে ২০০৩ সালে সাভারের হেমায়েতপুরে ১১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চামড়া শিল্পনগর স্থাপনের কাজ শুরু হয়। প্রায় ২২ বছর অতিবাহিত হলেও এটি এখনও পুরোপুরি কার্যকরী শিল্পনগরী হয়ে ওঠেনি। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১২ সালে। সেটি নির্মাণের পর পুরোপুরি চালু না করেই ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তর করা হয় হেমায়েতপুরে। এখনও কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার ফলে সৃষ্ট তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লবণ বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা এবং সাধারণ ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ইউনিট স্থাপনে তেমন অগ্রগতি হয়নি সেখানে। সাভারে স্থাপিত সিইটিপির তরল বর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার ঘনমিটার। কুরবানির সময় ট্যানারিগুলো পুরোদমে চামড়া প্রক্রিয়াজাত শুরু করলে তখন ৪০ থেকে ৪৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য উৎপাদন হয়, যা সিইটিপির সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে মাত্র ৭টি প্রতিষ্ঠান। এমন করুণ দশায় চামড়া শিল্প দিন দিন বাজার হারাচ্ছে।

চামড়া শিল্পের রফতানির চিত্র
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের দিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু রফতানির চিত্র বলছে, সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে বহু পদক্ষেপ জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিএম আই কনসালটিং সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিশ্বে চামড়াজাত পণ্য অর্থাৎ জুতা, স্যান্ডেল, ব্যাগ ইত্যাদির বাজারের আকার ছিল ২১ হাজার ৭৪৯ কোটি ডলারের। ২০৩৩ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ৫৫ হাজার ২৯০ ডলারে। বৈশ্বিক বাজার বড় হলেও এ খাতে বাংলাদেশের রফতানি বাড়েনি বরং কমেছে। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করে ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে রফতানি। ভিয়েতনাম ২০২৫ সালে ২৯ বিলিয়ন ডলার চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে। 

একই বছরে ভারতের রফতানি ছিল ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশে এ খাতে রফতানি হয়েছিল ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তার মানে বাংলাদেশের চেয়ে ভিয়েতনাম ২৯ গুণ এবং ভারত ৪ গুণ বেশি চামড়া রফতানি করেছে। একসময় চীনে রফতানির আগ্রহ ছিল না রফতানিকারকদের, এখন বাধ্য হয়ে চীনকে দিতে হচ্ছে। প্রতি বর্গফুট চামড়া রফতানি করতে হচ্ছে এক ডলারে। ইউরোপের ক্রেতা না থাকায় কখনো কখনো ৪০ সেন্টেও রফতানি করতে হয়। এর মূল কারণ এলডব্লিউজি সনদ না থাকা।

চামড়া খাতের রফতানিতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে সেগুলো হলো :
১. এলডব্লিউজি সনদ অর্জন : এলডব্লিউজি সনদ না থাকায় চামড়ার রফতানি মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না, দেশে যেমন কাঁচা চামড়ার দাম পাওয়া যাচ্ছে না, তেমনি ফিনিশড লেদার বা প্রক্রিয়াজাত চামড়ারও রফতানি মূল্য মিলছে না। বাধ্য হয়ে পানির দরে রফতানি করতে হচ্ছে। সে জন্য সিইটিপি কার্যকর করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

২. সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর করা : সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ত্রুটিমুক্ত ও পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে, যাতে বর্জ্য সঠিকভাবে পরিশোধন করা যায়।

৩.  রফতানি বহুমুখীকরণ :
শুধু ক্রাস্ট বা ফিনিশড চামড়া রফতানি না করে বিশ্বমানের চামড়াজাত পণ্য যথা- জুতা, জ্যাকেট, ব্যাগ ও বেল্ট ইত্যাদি তৈরিতে জোর দিতে হবে। এতে মূল্য সংযোজন বহুগুণ বেড়ে যাবে।

৪. কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সংগ্রহ : কুরবানির ঈদে ও সারা বছর চামড়া সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের সময় যেন চামড়া নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং এ কাজে জড়িতদের প্রশিক্ষণ ও জীবনধারণ উপযোগী বেতন দিতে হবে।

৫. চামড়া শিল্পের আধুনিকায়ন : বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত কাটিং ও ফিনিশিং মেশিনের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

৬. সহায়ক নীতি ও আর্থিক সুবিধা : তৈরি পোশাক খাতের মতো চামড়া খাতেও সহজ শর্তে ঋণ, করছাড় এবং নগদ প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হবে।

৭. যেহেতু কাঁচামাল হিসেবে চামড়ার রফতানি মূল্য কম, সে ক্ষেত্রে চামড়া দিয়ে বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্য উৎপাদন করে তা রফতানি করার প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। তাতে কর্মসংস্থানও বাড়বে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব 

এএডি/


  বিষয়:   সরকার  ব্যবসায়ী  চামড়া  শিল্প  সংকট 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: