মশক নিধন শিখতে আমেরিকা সফর ঘিরে চলমান বিতর্ক নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (০২ জুন) নিজের অফিশিয়াল পেজে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে তিনি জানান, এই সফরটি মূলত কোনো প্রমোদ ভ্রমণ বা কেবল মশক নিধন ‘শেখা’র জন্য ছিল না। ২০১৬ সালে আমেরিকার মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে যখন জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, তখন মার্কিন কোম্পানি ‘ভ্যালেন্ট বায়োসাইন্সেস এলএলসির’ একটি বিশেষ জৈবিক প্রযুক্তি প্রথমবার জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ চক্র সম্পূর্ণ থামিয়ে দিয়েছিল। ঠিক একই প্রযুক্তির মশার লার্ভা নিধনের কেমিক্যাল গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দীর্ঘ আট মাস ধরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়। পানিতে ছিটানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মশার লার্ভার পাকস্থলী ধ্বংসকারী এই কেমিক্যাল শতভাগ পরিবেশবান্ধব হওয়ায় মানুষ, মাছ কিংবা অন্য কোনো জলজ প্রাণীর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করে না।
মেয়র লেখেন, প্রতি বছর বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার কেমিক্যাল আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে তিনি বাংলাদেশে ভ্যালেন্ট বায়োসাইন্সেসের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি স্থানীয় কারখানা স্থাপনের দূরদর্শী প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে কারখানা করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্যই মূলত মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি চসিক প্রতিনিধিদলকে তাদের মূল কারখানা ও ল্যাব পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়।
পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও শতভাগ বিদেশি অর্থায়নের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। যার ফলে দেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক এই যাত্রাটি এখন থমকে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সফরের যাবতীয় অর্থায়ন করার কথা ছিল স্বয়ং ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেসের। অর্থাৎ, সরকারের বা চসিকের একটি টাকাও খরচ হতো না।
কারখানাটি চট্টগ্রামে হলে নানা সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি পোস্টে বলেন, শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা ও সারাদেশের মশার লার্ভা নিধনের কেমিক্যাল বাংলাদেশেই উৎপাদন হতো, প্রতি বছর বিদেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানির কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো, ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ থেকে দেশবাসী স্থায়ী মুক্তি পেত। ভুল তথ্য ও নোংরা রাজনীতির কারণে দেশের টাকা যেমন বিদেশে চলে যাবে, তেমনি অঙ্কুরেই মৃত্যু হতে চলেছে একটি বিশাল সম্ভাবনার। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং দেশকে ডেঙ্গু মুক্ত করতে এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়া জরুরি।
প্রসঙ্গত, মশক নিধন শিখতে চসিক মেয়রসহ কয়েকজন কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি প্রস্তাব সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই সফরের অনুমোদন না দিয়ে লেখেন ‘মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দুই তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।’ বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
/মহু