বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ) এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে মাজারের পাশেই ফাতেমার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে মাজার সংলগ্ন এলাকায় থাকা গণকবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশে ঘাটে গোসল করতে নামলে শিশু ফাতেমা আক্তারকে (৭) কে কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়।
পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন অংশ নেয় উদ্ধার অভিযানে। রাতভর উদ্ধার অভিযান শেষে মঙ্গলবার ভোরে মহিলা ঘাটের পাশ থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
জানা যায়, খানজাহান আলী (রহ.) এই দিঘি খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষটির নাম রাখেন কালা পাহাড় ও স্ত্রী কুমিরটির নাম ধলা পাহাড়। এরপর তাদের বংশধর কুমিরদের মধ্যে পুরুষকে ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলা পাহাড়’ ডাকা হতো। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
এর আগে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে ৬টি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। কিন্তু এরপর কয়েকটি মারা যায়। সর্বশেষ যে দুটো ছিল, তার মধ্যে একটা ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এর পর থেকে একটি কুমিরই দিঘিতে আছে।
/কেএইচও