বাগেরহাট খান জাহান (রহ.) মাজার দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু ফাতেমা নিহত হওয়ার পর অবশেষে জননিরাপত্তার স্বার্থ ইস্যুতে দীঘির কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রাত ১০টায় জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, মাজারের খাদেম, প্রত্নতত্ব অধিদফতর ও সংবাদকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জরুরি সভা হয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে মাজারের দিঘির পাড় থেকে ফাতেমা (৮) নামের একজন শিশুকে নিয়ে যায় দীঘির কুমির। পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে ওই দীঘিতে ফাতেমার মৃতদেহ ভেসে ওঠে। দুপুরে জানাজা শেষে মাজার প্রাঙ্গণে ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়।
এর আগে, গত এপ্রিল-২০২৬ মাসে দিঘির কুমিরটি একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যায়, সেই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়েছিল। সেই সময়ই প্রশ্ন ওঠে লোকালয়ের একটি দিঘিতে এমনভাবে কুমির রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে। মাজারের ঐতিহ্যের সঙ্গে কুমির সম্পর্কিত হলেও বর্তমানে এই দীঘিতে টিকে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি খানজাহান আলীর আমলের সেই কুমিরের বংশধর নয় বলে জানান মাজারের খাদেমরা।
জরুরি সভায় মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কুমির নিয়ে মাজার কেন্দ্রিক এক ধরনের ব্যবসার কথাও সামনে আসে। মাজারে কুমির নিয়ে বাণিজ্য ও তাবিজ বিক্রিসহ নানা উপায় প্রতারণা ও অর্থ আদায়ের অনিয়ম নিয়ে বক্তব্য দেন অনেকে। এক পর্যায়ে নিরাপত্তার জন্য মাজার দীঘি থেকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সবশেষে জেলা প্রশাসক ও মাজার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম মো. বাতেন বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমিরটিকে দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর এখানে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামো না হওয়া পর্যন্ত কুমিরটি বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হবে।
সভার সিদ্ধান্ত বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কুমিরটি স্থানান্তরের বিষয়ে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে খুলনা থেকে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি দল অবস্থান করছে। তারা কুমিরটি দীঘি থেকে তুলে এনে আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করবেন।
সময়ের আলো/জেডি